দলবেঁধে লোকালয়ে ঢুকছে বন্যহাতি, কাজে আসছে না সোলার ফেন্সিং

0

সময় এখন ডেস্ক:

সোলার ফেন্সিং প্রকল্প। বন্য হাতি কবল থেকে রক্ষা পেতে শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের সীমানা দিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছিল। কয়েক বছর সোলার ফেন্সিং এর ব্যবহার হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত এটি ব্যবহার না করায় এখন আর কাজে আসছে না। ফলে বন্য হাতির দল অবাধে প্রবেশ করছে লোকালয়ে। ক্ষ’তি হচ্ছে জানমালের। ঝুঁ’কি নিয়ে বাস করছেন গারো পাহাড়ের বাসিন্দারা। এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন জানালেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত।

এলাকাবাসী জানান, শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের রয়েছে বাবেলাকোনা, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা, চান্দাপাড়া, মালাকোচা, ঝুলগাঁও, দার্শিকোনা, রাঙাজান, খারামোরা, বালিজুরি, তাওয়াকোচা, রাংটিয়া, গজনি, বাকাকোড়া ও দুদনইসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম। এখানে লক্ষাধিক লোকের বসবাস। প্রায় দেড় যুগ ধরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পোড়াকাশিয়া অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা থেকে বন্য হাতির দল ওইসব গ্রামে আসছে। বন্য হাতি হাম’লা চালাচ্ছে সবজি ও ফসলের ক্ষেতসহ ঘরবাড়িতে। এতে ক্ষ’তি হচ্ছে জানমালের।

গারো পাহাড়ের বাসিন্দারা টিকে থাকতে হাতির সাথে প্রতিনিয়ত যু’দ্ধ করে যাচ্ছে। এতে কখনো মা’রা যাচ্ছে মানুষ। আবার কখনো মা’রা যাচ্ছে বন্য হাতি। এ পরিস্থিাতি থেকে রক্ষা পেতে সরকার গারো পাহাড়ের সীমানা দিয়ে ১৩ কিলোমিটার সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে জিআই তার দিয়ে বেড়া নির্মাণ করে। এ প্রকল্পটির সোলার ফেন্সিং প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন হয়। এসব তারে শক খেয়ে ফিরে যেতো বন্য হাতি। এতে কয়েক বছর বন্ধ ছিল হাতির বিচরণ।

বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেড। তবে সোলার ফেন্সিং নিয়মিত ব্যবহার না করা ও ব্যবহারের প্রয়োজনীয় উপকরণ ন’ষ্ট হওয়ায় এটি ব্যবহার হচ্ছে না। এতে দিন দিন বেড়েই চলছে বন্য হাতির তা’ণ্ডব।

ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী গ্রামের কৃষক প্রফুল্ল মারাক বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর কিছুদিন এর সুফল পেয়েছি। তবে সোলার ফেন্সিংয়ের এনার্জিজার, সোলার প্যানেল, চার্জ কন্টোলার ও ফেন্স এলার্মসহ বিভিন্ন উপকরণ ন’ষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়াও সোলার ফেন্সিংয়ের বিভিন্নস্থানে তার ছিড়ে গেছে। এসব মেরামত না করা ও তদারককারীর অভাবে এটি আর ব্যবহার হচ্ছে না। এতে বন্য হাতির হাম’লা দিন দিন বাড়ছে।

শ্রীবরদী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমা বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হতে ৯০ জন লোক বন্য হাতির হাম’লায় মা’রা গেছে। প্রতি বছর ৪০০ হতে ৫০০ একর জমির ফসল ন’ষ্ট হচ্ছে। হাতির কারনে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে বিশ্ব ব্যাংক থেকে ২০১৭ সালে কোটি টাকা ব্যায়ে সোলার ফেন্সিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকার। বর্তমানে সোলার ফেন্সিং প্রকল্প অচল হয়ে পড়ে থাকায় বন্য হাতির আনাগোণা বেড়েই চলেছে। এখন বিভিন্ন ফলের বাগানে হাম’লা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষ’তি করছে।

সিংগাবরনা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু বলেন, সোলার ফেন্সিং প্রকল্প ঝিনাইগাতীতে বাস্তবায়ন হলেও শ্রীবরদীতে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শ্রীবরদীর গারো পাহাড়ে বন্য হাতির দল বেশি হাম’লা করছে। ফলে গারো পাহাড়ের লক্ষাধিক মানুষ বন্য হাতির আত’ঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকশি বলেন, সোলার ফ্যান্সিং চালু করতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বন্য হাতির হাম’লা।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ দৈনিক বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সোলার ফেন্সিং মেরামত ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়ে বাজেট তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে জেলা বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক প্রশান্ত কুমার জানালেন, দ্রুত এই সোলার ফেন্সিং চালু করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কালেরকণ্ঠ

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!