সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জাম পা’চারকারী সিন্ডিকেট সদস্য আটক

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে লালমনিরহাট শহরের ডাইভারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে সদর পুলিশ। এসময় বাসার মালিক আব্দুর রাজ্জাক রেজা ও তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক আব্দুর রাজ্জাক রেজা ওই এলাকার মমতাজ উদ্দিনের পুত্র বলে পুলিশ জানিয়েছে এবং তিনি ড্রাইভারপাড়া এলাকায় ভাড়া নেয়া একটি রেলওয়ে কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছেন।

উদ্ধার হওয়া এসব সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জনের অফিসের স্টোররুম থেকে পা’চার হয়ে তাদের কাছে আসে।

আটক দম্পতি পুলিশ ও সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়ে জানান, বিগত ৮ বছর ধরে তারা পা’চার হওয়া সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি বিভিন্ন মেডিসিন ডিসপেন্সারীর মাধ্যমে বিক্রি করে আসছেন। কারো নাম উল্লেখ না করে তারা পুলিশকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সরকারি এসব ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি পা’চার করে তাদের মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রি করে আসছে।

অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমানে সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদিসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেন। উদ্ধার হওয়া মেডিকেল সরঞ্জামাদির মধ্যে ওজন মাপার মেশিন, ডায়াবেটিস চেক আপ মেশিন, মাস্কস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, প্রেশার মাপার মেশিনও রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে থানায় এই ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি সিজার লিস্ট করে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ৬ মাস ধরে হাসপাতালের এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালের স্টোরকে থেকে কোন ওষুধ খোয়া যায়নি। যেহেতু সরকারি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে তাই তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে হাসপাতালের স্টোর ভালোভাবে তল্লাশি করবেন এবং কোন ঘা’টতি থাকলে সংশ্লিষ্ঠ স্টাফের বিরু’দ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় জানান, অবশ্যই স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছে। পুলিশকে সরকারি ওষুধ মেডিকেল সরঞ্জামাদিসহ আটক ২ জনকে জিজ্ঞাসা’বাদের মাধ্যমে সিন্ডিকেটে জড়িত স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের নাম বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, জড়িত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের নাম পেলে তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন।

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসা’বাদ চলছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি পা’চার ও কালোবাজারে বাজারজাতকারি সিন্ডিকেটের অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাবেন।

* ব্যবহৃত ছবিটি প্রতীকী

শেয়ার করুন !
  • 345
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!