মাদ্রাসা ও স্কুল ছাত্রী এবং গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেল, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র

0

সময় এখন ডেস্ক:

দুই ছাত্রীর সাথে প্রেম, সেই সাথে এক গৃহবধুর স্বামীর চুরির ঘটনা ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলে ফেলে বিভিন্ন সময় পৃথক স্থানে শারীরিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে ও গতকাল বুধবার সকালে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল থানায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ওই তিন ভিক্টিমকেই ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার দত্তপাড়া গ্রামের নিবাসী ও স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীর সাথে প্রতিবেশী আবদুল গণির ছেলে স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যায়নরত মো. রবিন মিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে। তারপর বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক করে। একদিন একটি বড়ি খাইয়ে দেয়া ব্লিডিং হয়। তখন কিশোরী পরিবারকে জানায়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার এলাকায় সালিশ বসে। সেখানে সমাধান না পেয়ে ওই রাতে থানায় অভিযোগ করেন ছাত্রীর মা। পুলিশ রাতেই রবিন ও তার ভাবী রুনা আক্তারকে আসামি করে মামলাটি নথিভুক্ত করে।

অপরদিকে ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সৈয়দভাকুরী গ্রামের মাহেন্দ্র চালক টাকা চুরি করছে এমন অভিযোগে তার স্ত্রীকে (১৯) পুলিশ নিয়ে যাবে, এমন কথা বলে গত ২০ জুন তুলে নিয়ে যায় একই গ্রামের মতি মিয়া (৪৫)। পরে ব্ল্যাকমেল করে ওই গৃহবধূর সাথে বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন মিলে ২ দফা শারীরিক সম্পর্ক করে। বিষয়টি কাউকে না জানানোর কথা বলে ১০ হাজার টাকা দিয়ে রফা করার চেষ্টাও হয়।

কিন্তু গৃহবধূর স্বামী সব জানতে পেরে কৌশলে স্ত্রীকে নিয়ে থানায় হাজির হয়। এ ঘটনায় মতিসহ ২ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ করেন গৃহবধূ। পরে গত বুধবার মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়।

এদিকে নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চরলক্ষীদিয়া গ্রাম নিবাসী ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী পার্শ্ববর্তী রাজীবপুর ইউনিয়নের চরনওপাড়া গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে আবু হানিফের (২০) সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। গত ২১ জুন ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে নিয়ে যায় হানিফ। পরে রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে সম্পর্ক করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরদিন মেয়ের বাবা থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের পাঁচরুখি বাজারে এডভান্স কোচিং সেন্টারের প্রধান নুরুল ইসলাম নুরু তারই এক ছাত্রীর সাথে গোপন সর্ম্পকের ভিডিও ধারণ করে। এ অবস্থায় ছাত্রীকে প্রতিনিয়তই সর্ম্পকের কথা বললে রাজি না হওয়ায় তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন জনের মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ছাত্রীর পরিবার পড়ে বে’কায়দায়। পরিবারিটি মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্ধিগ্ন। ঘটনাটি মীমাংসা করতে একটি চক্র গত ৩ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে দুই থানার ওসিই জানালেন, ২ ছাত্রী ও গৃহবধূর নির্যা’তনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আর নান্দাইলের ভিডিও প্রচারের ঘটনায় উপ-পরিদর্শক আব্দুল করিম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালেরকণ্ঠ

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!