দক্ষিণ আফ্রিকায় সংঘবদ্ধ পাকিস্থানিদের হাতে নৃশংসভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী খুন

0

প্রবাস ডেস্ক:

পৃথিবীর বুকে এক বিষফোঁড়া ধরা হয় পাকিস্থানকে। সন্ত্রাসের লালন পালন ও বংশবিস্তারের এক স্বর্গরাজ্য এই দেশটি। শুধুমাত্র ভারতীয় উপমহাদেশেই নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশে জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় অপরাজনীতি, অপরাধমমূলক কর্মকাণ্ডসহ যত ধরনের কুকর্মের সন্ধান পাওয়া যায়, তার বড় একটা অংশের সাথে জড়িত থাকে এই দেশটির নাগরিকরা। বিশ্বের বড় বড় দাগি কুখ্যাত অপরাধীদের আশ্রয়স্থল পাকিস্থান। সেই সাথে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তার জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিবেশি দেশগুলোতে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড ঘটানোর পেছনে জাতীয় বাজেটের বড় একটা অংশ ব্যয় করে।

তাদের এসব কুকর্মের ফিরিস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনা। সংঘবদ্ধ পাকিস্থানিদের হামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের স্প্রিং শহরে আকাশ রহমান নামে এক বাংলাদেশি হোটেল ব্যবসায়ী খুন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আকাশের দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

জানা যায়, ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাকিস্থানি দুই সহোদর ভাই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আকাশ রহমানের হোটেলে এসে ১৫ র‌্যান্ডের (দক্ষিণ আফ্রিকান মুদ্রা) বাজার করে ১০ র‌্যান্ড দিয়ে চলে যেতে চায়। এতে আকাশ প্রতিবাদ করলে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয় এবং ঐ দুইজন তাকে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

পরবর্তীতে পাকিস্থানি দুই সহোদর আরো ৬-৭ জন পাকিস্থানিকে খবর দিয়ে জড়ো করে। ব্যবসায়ী আকাশ সন্ধ্যা ৭টায় দোকান থেকে বের হওয়া মাত্রই কিছু বুঝে উঠার আগেই সংঘবদ্ধ চক্রটি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার বুকে, পেটে এবং পিঠে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আকাশ।

মূহুর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক বাংলাদেশি সেখানে জড়ো হতে শুরু করে। তা দেখে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ পরিষদ অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিদল ছুটে যান। রাতেই বাংলাদেশ পরিষদ অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারী মুনির আহমেদ এবং স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতা মোঃ খসরুর নেতৃত্বে স্থানীয় বাংলাদেশিরা স্প্রিং পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থান করে এবং অভিযোগ দাখিল করে।

নিহত বাংলাদেশী আকাশ রহমানের দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গের স্প্রিং শহরে হোটেল ব্যবসা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। গত ৬ মাস পূর্বে দেশে গিয়ে বিয়ে করেন এবং স্ত্রীসহ দক্ষিণ আফ্রিকা ফিরে আসেন। এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

উল্লেখ্য, গত ৬ দিনে মোট ৯ জন বাংলাদেশি দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্মমভাবে খুন হয়েছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্কের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা এমন নৃশসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল বলেন, এই ধরণের পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশিরা নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের ব্যবসা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply