শ্রমিকরা কার ইন্ধনে এসব আচরণ করছে?

0

সময় এখন ডেস্ক:

৮ দফা দাবি নিয়ে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের এই কর্মসূচিতে দুর্ভোগে নাকাল হয়ে পড়েছে দেশবাসী। রবিবার সকাল থেকে রাজধানীর কোনো সড়কে গণপরিবহন চলাচল করছে না। বাধ্য হয়ে মানুষ বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা বা রিক্সায় গন্তব্যে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া কেউ কেউ উবার-পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার নিয়ে ছুটতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও নিস্তার মিলছে না উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকদের হাত থেকে।

রাজধানীতে সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা এসব যানবাহনের চালক, কোথাও যাত্রীদের মুখে পোড়া মবিল লাগিয়ে দিচ্ছে। কারও আবার মোটরসাইকেলের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। রিক্সা উল্টে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল এলাকাগুলোতে নিজেদের জনবল বেশি থাকায় বেপরোয়া আচরণ করছে শ্রমিকরা। হঠাৎ করে এমন বিব্রতকর অবস্থায় অফিসগামী অনেক মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি অ্যাম্বুলেন্সও। চালকের মুখে মবিল লাগানোর পাশাপাশি গাড়িতেও মবিল ঢেলে দিচ্ছে শ্রমিকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। চালক এবং যাত্রীদের মুখে পোড়া মবিল লাগানো ছবি শেয়ার করে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবি আদায়ে সারাদেশে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডাকে শ্রমিকরা। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে বাসটার্মিনালগুলোর আশপাশে ধর্মঘটের সমর্থনে পরিবহন শ্রমিকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ চোখে পড়ে।

বিশেষ করে সায়েদাবাদ, গাবতলী, গুলিস্তান ও মহাখালী বাসটার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় তারা দলবদ্ধভাবে প্রাইভেটকার, অটোরিক্সা, রিক্সা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। এমনকি অনেক যাত্রী ও চালকের মুখ, কাপড়ে গাড়ির ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল (পোড়া মবিল) লাগিয়ে দেয় শ্রমিকরা। এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বাস-ট্রাকও আটকে দিতে দেখা যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে গুলিস্তান, মতিঝিলগামী কোনো যানবাহন চলছে না। ফাঁকে ফাঁকে ব্যাটারিচালিত রিক্সাভ্যান চললেও সেগুলো বেশি দূর যেতে দেয়নি শ্রমিকরা। যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় জোর করে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়। যানবাহন না পেয়ে এ সময় হাজার হাজার মানুষকে হেঁটেই নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

জুরাইনে কর্মস্থলে আসার সময় উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকদের রোষানলে পড়েন একজন সিনিয়র সাংবাদিক। কয়েকজন শ্রমিক তার মোটরসাইকেল থামিয়ে লাইসেন্স দেখতে চায়। পরে তাকে নামিয়ে মোটরসাইলের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয় এবং চাবি কেড়ে নেয় শ্রমিকরা।

পেশাগত কাজের কথা বলার পর শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনিও শ্রমিক আমরাও শ্রমিক। আমরা কাজ না করলে আপনারা কেন কাজ করবেন? এখন লেখেন নিউজ সমস্যা কী।’ পরে এক নেতাগোছের শ্রমিকের হস্তক্ষেপে উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকদের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি। এসময় ছবি তুলতে চাইলে তাকে হুমকি দেয় শ্রমিকরা। একই সময় ওই এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস আটকে দিয়ে চালককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে শ্রমিকরা। বাসের গ্লাসও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শ্রমিকদের এমন কর্মসূচির পেছনে সরকারের একজন মন্ত্রীর হাত আছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। যদিও সেই মন্ত্রীর কাছে দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চেয়েও কোনো উত্তর পাননি সাংবাদিকরা।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আবারও সম্রাট শাজাহান। রাস্তায় লাশ পড়বে। এতে চালকের দোষ কী? এর বিরুদ্ধে আবার আইন কিসের? মানুষ চোখ-হাত-পা কি কোলে করে রাস্তায় নামে? সবার উপর শাজাহানরা সত্য, তাহার উপরে নাই।’

মবিল মাখা ছবি পোস্ট করে পুলিশ কর্মকর্তা সালেহ এমরান লিখেছেন, ‘আপনাদের জাত চেনাতে এটুকু না করলেও পারতেন। এদেশের মানুষ আর একবার জানলো কতটা অসভ্য আপনারা!’

শ্রমিকরা মবিল মুখে মেখে দিচ্ছেন এমন ছবি পোস্ট করে ফরহাদ হুসাইন নামের একজন লিখেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সবার আছে, কিন্তু জনগণকে নাজেহাল করার অধিকার কারো নেই। অমানুষগুলো বুঝতেছে না, এই কালি মাখিয়ে তারা নিজের দেশটাকেই কলঙ্কিত করছে।’

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply