বাহারি অন্তর্বাস পরিহিত অস্ত্রধারী ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে

0

সময় এখন ডেস্ক:

পোস্তগোলায় পুলিশের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের সময় বাহারি অন্তর্বাস পরা অস্ত্রধারীর পরিচয় মিলেছে। তিনি পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তার নাম মো. ইবাদত। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় কর্মরত। শুক্রবার ঘটনার দিন ইটের আঘাতে ইবাদত আহত হন বলেও জানায় পুলিশ। তিনি বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মিজান শফিউর রহমান এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামান ওই পুলিশ সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

কী এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যাতে অন্তর্বাস ও লুঙ্গি অসংলগ্ন অবস্থায় ইবাদত অস্ত্র হাতে বের হয়েছেন- এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, ‘তিনি পুলিশের পোশাকেই ছিলেন। তার উপর হামলার সময় পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। আর আমাদের আনসার সদস্যরাই তাকে লুঙ্গি দেয়।’

একই ধরনের বর্ণনা দেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। তিনি ইবাদতের কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসাও করেন। বলেন, ‘সে পোশাক পরা অবস্থাতেই ডিউটিতে গিয়েছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তার পোশাক খুলে নেয়। পরে সে আনসার ক্যাম্প থেকে লুঙ্গি নিয়ে আবার ডিউটিতে ফিরে আসে। সে তার দায়িত্ব পালনে এতটাই নিষ্ঠা দেখিয়েছে যে নিজের পোশাক হারিয়েও সরকারি অস্ত্র খোয়া যেতে দেয়নি।’

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনার দিন শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে যখন ইট পাটকেল নিক্ষেপ করছিল তখন পুলিশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ পুলিশ সদস্য এবাদতের বুকে ইট লাগলে সে পড়ে যায়। তখন অন্য পুলিশরা সেটা খেয়াল করতে পারেনি। পরে সাধারণ মানুষ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে পাশের আনসার ক্যাম্পে নিয়ে যায়।’

শুক্রবারই ওই পুলিশের সঙ্গে বাহারী অন্তর্বাস পরা অস্ত্রধারীর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে গণমাধ্যম। সে সময় পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এ ব্যাপারে ঢাকার পুলিশ সুপার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তারা পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি, তাই কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে ট্রাকের টোল বাড়ানোর প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সোহেল নামে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুলিবিদ্ধ হয়ে এক নারীসহ ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।

ঘটনার দিন বেশ কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায়, সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি পরা ওই অস্ত্রধারীর লুঙ্গি থাকলেও সেটি এক পর্যায়ে খুলে যায়। তখন তার বাহারী অন্তর্বাস প্রকাশ হয়ে যায়। পরের একাধিক ছবিতে তাকে অন্তর্বাস পরা অবস্থাতেই দেখা যায়।

একটি ছবিতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি একটি বড় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাঁটছেন, গুলিও করছেন। তার পেছনেই পোশাকধারী পুলিশকেও একই ধরনের অস্ত্র তাক করে সতর্ক ভঙ্গিতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে অন্য একটি ছবিতেও দুই জন অস্ত্রধারী পুলিশের সঙ্গে ওই অস্ত্রধারীকে দেখা যায়। সেখানে পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করছিল, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দিন পুলিশের সাথে অন্তর্বাস পরা অস্ত্রধারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশের কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) রামানন্দ সরকার। তিনি বলেছিলেন, ‘পুলিশের সাথে থাকলেও যেহেতু আমরা দেখিনি, দেখলে হয়ত বলতে পারতাম।’

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply