শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামে বিভক্তি!

0

।। নাজিম মুহাম্মদ ।।

বিভক্ত হয়ে গেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আজ রবিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে থাকছেন না হেফাজতের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপুর্ণ নেতা। দলের মহাসচিব জুনায়েদ বাবু নগরীও সমাবেশের কোনো বিষয়ের সাথে জড়িত নেই। এছাড়া হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আজকের সমাবেশে অংশ নেননি- হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, নায়েবে আমীর মাওলানা তফাজ্জুল হক হবিগঞ্জি, নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম, মহাসচিব হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী এবং তাদের অনুসারীরা।

আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আওয়ামী লীগের এজেন্টদের সঙ্গে তার কোনও ধরণের সম্পর্ক না থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমার পিতা আল্লামা হারুন বাবুনগরী চিরকাল আওয়ামী ধর্মবিদ্বেষীদের বিপক্ষে কাজ করে গেছেন। ধর্মনিরপেক্ষবাদের বিরোধী মুফতী আমিনীর জোটে আমি শরিক ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে ধর্মের গোড়া কেটে আগায় পানি দেওয়া আওয়ামী এজেন্টদের সাথে আমি নেই।

আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জমিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসার পরিচালক। তিনি বলেছেন, ছয়টি কওমী শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে যে আল-হাইয়াতুল উলাইয়া গঠন করা হয়েছে, আগামী বছর থেকে ওই সংগঠনের অধীনে তার মাদ্রাসার কোনও ছাত্র সরকারি দেওয়া স্বীকৃতি নিতে পরীক্ষায় অংশ নেবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ১৫ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তাতেও মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জুনায়েদ বাবুনগরী, নূর হোসাইন কাসেমী, জুনায়েদ আল-হাবীব, হেফাজতের প্রভাবশালী নেতা মুফতি ইজহারুল ইসলাম কিংবা তার ছেলে হারুন ইজহার নেই। আছেন হেফাজতে ইসলামের আমীরের পুত্র আনাস মাদানী। এ কমিটিতে রয়েছেন মাওলানা আশরাফ আলী, মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি নুরুল আমিন, আবদুল হালিম বোখারী, মাওলানা আরশাদ রাহমানী, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আবদুল বছির প্রমুখ।

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। গত ২২ অক্টোবর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শাহ আহমদ শফী ও হেফাজতের অন্য নেতারা দেখা করেন। তখনই সংবর্ধনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ পাস হয়।

জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক প্রকার অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। গতকাল ওই অংশের বেশিরভাগ নেতার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, প্রচার সম্পাদক মনির আহমদ, মঈন উদ্দিন রুহি, হারুন ইজহারের মতো তরুণ নেতারাও মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন।

হেফাজতে ইসলাম শুরু থেকেই আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানে থাকলেও পরবর্তীতে এ নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে দুইটি মত কাজ করে। বিশেষ করে ইসলামী ঐক্যজোট থেকে আসা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আমীর মঈন উদ্দিন রুহী ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরীর সরাসরি আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান শুরু থেকেই অব্যাহত থাকে।

২০১৩ সালে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে হেফাজতের সমাবেশে জুনায়েদ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরাগভাজন হন। কাছাকাছি সময়ে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী পরিচালিত লালখান বাজার জামেয়াতুল উলূম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে ১ শিক্ষকসহ ৩ জন নিহত হন।

নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে সরকারবিরোধী তাদের এ অবস্থান আওয়ামী লীগকে বিচলিত করে তোলে। পরবর্তী শাপলা চত্বরের অবস্থান থেকে জুনায়েদ বাবুনগরী এবং ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট লালখান বাজার মাদ্রাসা থেকে মুফতি ইজহারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কারাভোগের পর দুই নেতাই জামিনে বের হন। কিন্তু সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে মুফতি ইজহার হেফাজতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

জুনায়েদ বাবুনগরী সংগঠনটির মহাসচিবের দায়িত্বে থাকলেও বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত তার অজান্তেই হয়। সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে নানা সমস্যায় পড়ছেন বলে ইতিপূর্বে এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকারও করেছেন বাবুনগরী। তিনি বলেন, আমার শরীর ভালো নয়। ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমার পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। ফলে আমি দেশের বাইরে যেতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা করা হয়েছিল। সেগুলো তুলে নেওয়া হয়নি।

দৈনিক পূর্বকোণ

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply