বিকৃত বানানে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ জি-বাংলার

0

বিনোদন ডেস্ক:

কলকাতার টিভি চ্যানেল ‘জি বাংলা’র সঙ্গীত বিষয়ক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো সা-রে-গা-মা-পা অনুষ্ঠানে রবিবার স্মরণ করা হলো বাংলাদেশের প্রয়াত ব্যান্ড লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুকে। এই কিংবদন্তির গানে গানে তাকে শ্রদ্ধা জানায় অনুপম রায়সহ- অনুষ্ঠানের অপর বিচারকরা। তখন সা-রে-গা-মা-পা হয়ে উঠেছিল এক খণ্ড আইয়ুব বাচ্চু, এক খণ্ড বাংলাদেশ।

এই আয়োজনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও নাম বিকৃতির প্রবণতায় ক্ষিপ্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

কামরুল ইসলাম রিফাত নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘নামটা আইয়ুব বাচ্চু, আয়ুব না। বানানটাও ‘আইয়ুব’।’

‘আইয়ুব বাচ্চুকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে জি বাংলা। সবাই মিলে ‘সেই তুমি’ গেয়েছেন। মাঝে নোবেল নামের ছেলেটা রুপালি গিটারও গাইলেন। ভালোই লাগল। শিহরণও জেগেছে। সবাই যখন ‘সেই তুমি’ গায় তখন তো শিহরণ জাগবেই। কিন্তু এই আয়োজনে শিহরণটা ছিঁড়ে যাচ্ছিল একটু পরপর। আইয়ুব বাচ্চুর মতো গাইতে পারবে না এটা সত্যি কিন্তু তারপরও কোথায় যেন সুর হারাচ্ছিল। সুর তাল কম বুঝি, তবে ‘সেই তুমি’ তো সেই তুমিই।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘কনসার্টে আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে ‘সেই তুমিতে’ সবাই গলা মেলালে যেমন শিহরণ জাগে তেমন শিহরণ অনুপম আর নোবেলের ‘টোনে’ মিলবে না সত্যি। মেনে নিলাম; কিন্তু বার বার একটা কথাই খোঁচাচ্ছিল… নামের বানান-তো ‘আইয়ুব বাচ্চু, আয়ুব না। এই নামটা তো একজন কিংবদন্তির। সিগনেচার। তাই না?’

‘সম্মান দিয়েছে, শ্রদ্ধা জানিয়েছে, কলকাতা দেখিয়ে দিল, নিজের দেশ কিছু করল না। জি বাংলা কিন্তু সাকসেস, ভারতীয় চ্যানেল বিদ্বেষীর কাছে প্রশংসা তো পেলো। ব্যবসা, বাণিজ্যের হিসাব না হয় নাই কষলাম।’ যোগ করেন কামরুল ইসলাম রিফাত।

স্যাটেলাইট টেলিভিশন জি বাংলার মতো চ্যানেল আইয়ুব বাচ্চু নামের বানান নিয়ে ছেলেখেলা কেমনে করে? গুগল করলেও পারত।

আর হ্যাঁ, সেই তুমি কিন্তু একটাই। রিফাতের মত আরও অনেকে বিষয়টা নিয়ে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার ভক্তরা।

এর আগেও নামের বানান বিকৃতির এই প্রবণতা দেখা গেছে কলকাতায়। আর এই চর্চার শুরুটা হয় মূলত কলকাতার অন্যতম বাংলা সংবাদপত্র আনন্দবাজার থেকে। জয়া আহসানকে তারা ‘জয়া এহসান’ বলে সম্বোধন করেছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে লিখেছেন ‘মশরফি’। এই কাজটি তারা নিয়মিত করেন। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বাঁহাতি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে তারা ‘শাকিবুল হাসান’ লিখেছেন।

একটা দেশের ব্যবধানে নামের উচ্চারণ কীভাবে বদলে যায়? এটা জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আনন্দবাজার পত্রিকার একজন সাংবাদিক বলেন, আসলে আমাদের এদিকটায় ওই নামগুলো ওভাবে উচ্চারিত হয়, তাই লেখা। এটাতে খুব বেশি সমস্যা আমি দেখি না। তবে যেহেতু বিষয়টা নিয়ে এর আগেও বাংলাদেশের এক পরিচিত সাংবাদিক আমাকে বলেছিল। পরে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছিলাম। যেহেতু আপত্তি আছে সেহেতু ব্যপারটা এড়িয়ে চলা উচিত ছিল।’

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply