৬০ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে দেয়া বিচারপতি সিনহার সেই রায় স্থগিত

0

আইন আদালত ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের আপিল বিভাগ কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ৬১৫ কোটি টাকা ফেরতের আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ১১টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ‘অগ্রিম আয়কর’ হিসেবে নেওয়া ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে তৎকালীন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে টাকা ফেরতের বিষয়ে পৃথক রিট আবেদন করে। রিটের রায়ে সরকারের আদায়কৃত ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ৯০ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার আদেশের বিনিময়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন বিচারপতি সিনহা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এক-এগারো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জরুরি অবস্থা চলাকালে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা আদায় করেন। ওই টাকা ২ শতাধিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ০৯০০ নম্বর হিসেবে জমা হয়। এর মধ্যে আনুমানিক ১৫-১৬টি কোম্পানির পাওনা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সিনহা। আপিল বিভাগেও এই আদেশ বহাল ছিল। তবে রিভিউতে এসে স্থগিত হয়ে গেল টাকা ফেরত দেওয়ার আদেশ।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরও টাকা ফেরত না পেয়ে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষে রায় দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। ২০১৫ সালের ২ আগস্ট আপিল বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে আপিলের অনুমতি দেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

যেসব কোম্পানির পাওনা টাকার বিষয়ে আজ রায় হলো তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- এস আলম গ্রুপের ৭টি প্রতিষ্ঠানের ৬০ কোটি, দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড এবং বারাউরা টি কোম্পানি লিমিটেডের ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ, মেঘনা সিমেন্টের ৫২ কোটি, বসুন্ধরা পেপার মিল ও ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টির ১৫ কোটি, ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের এক পরিচালকের ১৮৯ কোটি, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডের ৯০ কোটি, ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের ৭০ লাখ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসর্টসের ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের ৭ কোটি ১০ লাখ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ৩৫ কোটি এবং ও ইউনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারীর ৬৫ লাখ টাকা।

এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর কাছ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা, ব্যবসায়ী নূর আলীর কাছ থেকে ৪০ কোটি, ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের কাছ থেকে ১৭ কোটি, আবু সুফিয়ানের ১৪ কোটি, শওকত আলী চৌধুরীর ৬ কোটি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কাছ থেকে ১৫ কোটিসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!