এসব কারনেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম আলো নিষিদ্ধ!

0

ফিচার ডেস্ক:

বাংলাদেশের সর্বাধিক বিকৃত দৈনিক ‘প্রথম আলো’ তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ভালোর সাথে আলোর পথে’ শিরোনামে বেশকিছু ঘটনার আলোকে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। গত ৫ নভেম্বর ২০১৮ প্রথম আলো পত্রিকার ৯ এর পাতায় ‘দুই পায়ে স্বপ্ন বুনে চলেছেন বানু’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণই অসত্য। দেশের একটি অনলাইন দৈনিকের নিজস্ব প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে প্রথম আলোর বানোয়াট সংবাদের আদ্যোপান্ত।

বানু আক্তার গাজীপুরের দেওয়ালিয়া বাড়ী এলাকায়। তার দুটি হাত নেই, বেড়ে ওঠা দরিদ্র পরিবারে। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তাচ্ছিল্যের মাঝেই সংগ্রাম করে তার এগিয়ে চলার চেষ্টা। প্রথম আলোর এই প্রতিবেদনে বলা হয়, দারিদ্র্যের কারণে দশম শ্রেণীর পর পড়াশুনা করতে না পারায় তিনি গৃহকর্মীর কাজের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধরনা দিয়ে কাকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তাকে কেউ কাজ দেয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন চাকরি মেলাতেও ঘুরেছেন, সবার তাচ্ছিল্যেই জেদের বশে ভিক্ষা না করে পা দিয়ে বিভিন্ন কুটির শিল্প তৈরির কাজ শেখেন তিনি। এখন তিনি চান বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক কোনো জীবিকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। এই বানু আক্তারকে কেয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজের প্রধান আবদুল খালেক পাঠান ২০০৯ সালে তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন। খালেক পাঠান বলেন, কেয়া গ্রুপের স্পিনিং কারখানায় বানু আক্তার এখনো কর্মরত। পে-রোলে তার বেতন হয়। এমনকি কোনো কাজ না করলেও তাকে প্রতিমাসে নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমাসে বানু আক্তার পা দিয়ে স্বাক্ষর করে টাকা নিয়ে যায়। এমনকি বানু আক্তারকে যখন প্রতিষ্ঠানটির চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়, বিটিভিতে প্রচারিত দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তেও সেটা নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেখানো হয়েছিল। ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসায় ওই সময় তিনিও বানু আক্তারকে সহায়তা করেন।

এই প্রতিবেদনে বানু আক্তারকে নিয়ে যে তথ্যগুলো দেওয়া হয়েছে তা বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে কেয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজের প্রধান আবদুল খালেক পাঠান অনলাইন দৈনিকটিকে জানিয়েছেন।

প্রথম আলো বরাবরই দাবি করে যে তারা সবসময়েই সত্য এবং নিরপেক্ষ সংবাদের পক্ষে। যদিও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে প্রথম আলোর সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ট্রান্সকম গ্রুপের দুটি পত্রিকা- প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার এর প্রবেশ নিষেধ। সেই পত্রিকার সংবাদের সত্যতা পাঠক হিসেবে জানার উপায় আমাদের নেই। এই একটি প্রতিবেদন অনুসন্ধান করেই পাওয়া গেলো এটির তথ্য পুরোই অসত্য। তাদের সংবাদের বাস্তব ভিত্তি নেই, এই প্রতিবেদনটি তারই উদাহরণ। তাহলে অন্য প্রকাশিত সংবাদগুলো কতোটা সত্য তা নিয়ে তো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডারের প্রতিবেদন অবলম্বনে

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply