বর্বরতার সীমা পরিসীমা কোথায়?

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চারটি ছোট্ট ফুটফুটে কুকুরছানার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এক দল পিশাচরূপি মানুষ। ছোট্ট অবলা প্রাণীগুলো মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। আর্তনাদ করছে। পাশেই দাঁড়িয়ে তাদের মা। দাঁড়িয়ে কখনও প্রাণপণে ছুটছে এদিক-সেদিক, কখনও অসহায় হয়ে ডেকে চলছে একটানা। আর সব কটা সন্তান যখন আগুনে ঝলসে নেতিয়ে পড়েছে, মা তখন তাদের পাশে ঠায় বসে। হয়তো গড়িয়ে পড়েছে অশ্রুধারাও। এমনই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদে।

ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জীবন্ত অবস্থায় পোড়ানো কুকুরছানাগুলির ছবি। স্থানীয় একটি পশুপ্রেমী সংগঠনের কর্মীরা খবর পেয়ে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে ৩টি কুকুরছানা আর বেঁচে নেই।

একটি সামান্য নড়াচড়া করছিল। তাকে নিয়ে পশু হাসপাতালে ছোটেন ওই সংগঠনের কর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকেও বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসায় সাড়া না দেয়ায় ওই পশু হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ৪র্থ কুকুরছানাটিরও। শোকগ্রস্ত এলাকাবাসী সোচ্চার হয়েছেন অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কুকুরছানাগুলি নিস্তেজ হয়ে পড়ার পর মা কুকরটি সারাক্ষণ তাদের পাশে বসে ছিল। কখনও মুখ দিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখছিল, হয়তো কেউ বেঁচে আছে।

একজন বলেন, ‘মা কুকুরটির সন্তানহারা হওয়ার ওই দৃশ্য দেখে নিজেকে ঠিক রাখতেই পারছিলাম না। কেঁদে ফেলেছি। মনে হচ্ছিল, নিজেরই কোনও পরিজনকে হারিয়েছি। কোনও মানুষ যে এত নিষ্ঠুর হতে পারে, ভাবতেই পারছি না।’

অন্য দিকে, ‘পিপল ফর অ্যানিম্যাল’ নামে হায়দ্রাবাদের ওই পশুপ্রেমী সংগঠন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু কে বা কারা, কী কারণে এই নিরীহ পশুগুলিকে পুড়িয়ে মারা হলো, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পশুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতারোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন নেটিজেনরা। অপরাধীদের খুঁজে বের করে দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন কেউ। ফেসবুক-টুইটারে অধিকাংশই জঘন্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

২০১৬ সালে হায়দ্রাবাদে প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকটি সদ্যোজাত কুকুরছানাকে একসঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কয়েকজন কিশোর ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারও করে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply