সিরাজগঞ্জে আদিবাসী ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক যৌন হয়রানি

0

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের তালোমে গুল্টা আদিবাসী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার বাবা শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও অভিযোগ উঠেছে মামলা নিতে গড়িমসি করছেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। এমনকি, গণমাধ্যমকর্মীরা থানায় গিয়ে এ বিষয়ে তথ্য নিতে গেলেও ওসি বিরক্ত হন। তাদের সাথে অসহযোগীতা করেন।

ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকা আদিবাসী ছাত্রীদের নানা অযুহাতে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কয়েকবার এমন অভিযোগ করেছেন। এমনকি এলাকার অনেক নারীকেও যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তারের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ শুরু করলে তাকে বিশেষ কায়দায় ম্যানেজ করেন তিনি। এমনকি পরিচালনা পর্ষদ তার অনৈতিক আচরণের বিষয়ে জানার পরেও প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আমলে নেন না।

মেয়েটির বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার শুক্রবার সকালে রান্নার কাজে সহযোগিতা করার কথা বলে আমার মেয়েকে হোস্টেল থেকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। এক পর্যায়ে মেয়েটি সেখান থেকে পালিয়ে এসে অন্যান্য সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে শুক্রবার তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়নি।

এদিকে, এ ঘটনার পরপরই ওই প্রধান শিক্ষক গা-ঢাকা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোতালেব হোসেন শিশির সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি জেনে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বার বার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।’

তাড়াশ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি ও তার বাবা শুক্রবার রাতে থানায় এসে যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শনিবারও অভিযোগটি রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। রবিবার সরেজমিনে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার সরাফত ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেও এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবা।’ মামলা রেকর্ড করতে ওসির গড়িমশির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!