মাসের শেষ দিনগুলোর গল্প

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

মাসুম একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বেশ ভালো বেতনের চাকরি করে সে। ব্যাচেলর জীবনে অফিস শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েই কেটে যায় বেশ। তবে মাসের শেষ কয়েকটা দিন আড্ডা বেশ এড়িয়ে চলেন মাসুম। কারণ প্রায় প্রতিমাসেই শেষের দিকে গড়ের মাঠ হয়ে বসে থাকে মাসুমের পকেট। প্রায় সব মাসেই একটা পণ করে মাসুম, আগামী মাসে যেন এমন অবস্থা না হয় কিন্তু গল্প আর পাল্টায় না মাসুমের।

মধ্যবিত্ত কর্মজীবীদের মাসের শেষ কয়েকটা দিন যেন আত’ঙ্ক। নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতন দিয়ে মাস শুরু করার পর মাসের শেষদিকে এসে যেন দিনগুলো আর শেষ হতেই চায় না। উচ্চ বেতনধারী লোকেরাও একই ধরণের সমস্যায় পড়তে পারেন।

চাকরিজীবীদের অনেকেই মাসের শুরুতে বেতন হাতে পেয়েই কোনো ধরণের পরিকল্পনা ছাড়াই খরচ করতে শুরু করেন, ফলস্বরূপ মাসের শেষ দিনগুলোতে ভুগতে হয় বেশ। সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই এই সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মাসের শুরুতে বেতন পাবার পরেই প্রতি সপ্তাহের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা করুন। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে আপনার এ সপ্তাহের প্রয়োজনীয়তা একটি তালিকা তৈরী করে ফেলতে পারেন। সেটা হতে পারে আপনার ইউটিলিটি বিল, কাঁচা বাজার, ওষুধ, আনুষঙ্গিক খরচ ইত্যাদি। বেতন পাবার সাথে সাথেই সপ্তাহের পরিকল্পনার সাথে মিলিয়ে নিয়ে টাকাগুলো ভাগ করে ফেলতে পারেন। সপ্তাহ শেষে দেখা যাবে সঠিক পরিকল্পনার কারণে কিছু টাকা আপনার হাতে থেকে যাবে যা মাস শেষের দিনগুলোতে আপনার সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

আমাদের অনেকেরই আজকাল অফিস শেষে ফেরার পথে সুপারশপে ঢুঁ দেয়া অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। দেখা যায় প্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি অনেক অ’প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যাচ্ছে, ফলে মাসের শেষভাবে এই ছোট ছোট খরচই বাড়তি চাপে ফেলে দিচ্ছে। তাই এই অভ্যাসটিও পরিবর্তন করা জরুরী।

বাসায় একটি আলাদা জায়গায় ছোটবেলার মতো ব্যাংক রাখা যেতে পারে। আজকাল মাটির পাশাপাশি প্লাস্টিকে তৈরী ব্যাংক পাওয়া যায়। কিছু কিছুতে আবার তালা দেয়ার ব্যবস্থাও থাকে। প্রতিদিন বাইরে থেকে ফেরার পড়ে খুচরা পয়সা পকেটে ফেলে না রেখে জমা করুন সেই ব্যাংকে। এটা হয়ত খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এটাই আপনার একটা সাপোর্ট হতে পারে। অতদূরে না গেলেও অল্প ক’টা টাকাটাই মাস শেষে আপনার কাজে লেগে যেতে পারে।

শহুরে জীবনে নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট হচ্ছে প্রতিদিন। তাদের অসাধারণ সব মার্কেটিং মাস শেষে ফাঁকা পকেটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাওয়া ঘন ঘন রেস্টুরেন্ট ভ্রমণ অভ্যাস কমিয়ে আনলে মাস শেষে পকেটে টাকা কিছুটা হলেও বেঁচে থাকবে।

কীভাবে খরচ হচ্ছে, এটা লিখে রাখার অভ্যাসটাও দিনশেষে খুব উপকারী হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রথমদিনে ব্যাপারটা অভ্যস্ততা না থাকায় ইচ্ছা হবে না। কিন্তু নিয়মিত এই কাজটি করে যেতে পারলে পরের মাসে আপনি আপনার অতিরিক্ত খরচের জায়গাগুলো বের করতে পারবেন। ঐ খরচগুলো নিয়ে একটু সাবধান হয়ে গেলেই এই ছোট খাতাটি হয়ে যাবে মাস শেষে পকেটে টাকা থেকে যাবার সিক্রেট ওয়েপন।

ধুমপান বা কফিশপে চা বা কফির অভ্যাস পরিত্যাগ করতে না পারলে অন্তত নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমেও মাসের শেষভাগে পকেটে টাকা বেঁচে যেতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু স্বাস্থ্যকর উপায় হচ্ছে হাঁটার অভ্যাস। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় একটু তাড়া থাকে অনেকেরই। কিন্তু ফেরার সময়টা সম্পূর্ণ নিজের। এ সময় খুব বেশি দূর যেতে না হলেও অন্তত কিছুটা পথ হাঁটতে পারেন। গাড়ি থেকে বড় রাস্তায় নামার পর যদি রিক্সা নিতে হয়, সে যাত্রাটা মাঝে মাঝে হেঁটে যেতে পারেন কি না ভাবুন। এতে স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি কিছুটা অর্থ বেঁচে যেতে পারে।

তবে দিনশেষে এসব কিছুই নির্ভর করবে লক্ষ্য স্থির করা এবং ইচ্ছাশক্তির ওপর। চলুন এই মাস থেকেই শুরু করি মাস শেষের দিনগুলোর গল্প বদলে দেবার। আগামী মাসেই নাহয় বদলে যাওয়া গল্পের হিরো হিসাবে মাসের শেষে কোনো রেস্টুরেন্টে নিজেই নিজেকে ট্রিট দিয়ে দিলেন।

লেখক: মাহাবুব মোরশেদ রিফাত

শেয়ার করুন !
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply