‘বিনা উস্কানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে তারা পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে’

0

সময় এখন ডেস্ক:

আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে তারা পুলিশের উপর হামলা হয়েছে। পুলিশের দুটি গাড়ি তারা পুড়িয়ে দিয়েছে।’

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের এখানে তাদের থেকে বেশি জমায়েত হয়েছিল। এমনও দেখেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজাকে পেছন দিক থেকে দেড় কিলোমিটার হেঁটে এ অফিসে আসতে হয়েছিল। সে তুলনায় এমন কি ভিড় তাদের হয়েছিল? পুলিশ আমাদের এখানেও ছিল নিরাপত্তার জন্য।

তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃতে আজ তারা পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পুলিশের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। অপর একটি গাড়ি প্রায় পুড়িয়ে ফেলে এবং ১৩ জন পুলিশের সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হয়ে আজ হাসপাতালে।’

তিনি আরো বলেন, তারা নির্বাচন পেছানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করলেন, নিজেদের বীরত্ব দেখালেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ দুটি ধারায় বিভক্ত। একটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি। অন্যটি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। এরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এদের প্রধান লক্ষ্য দেশকে পাকিস্থানি ধারায় নিয়ে যাওয়া।

এ উস্কানি কারা দিলো- প্রশ্ন রেখে এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘তাহলে কি নির্বাচন পেছানোর জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের বীরত্ব জাহির করলো? যে ষড়যন্ত্র নির্বাচন বানচালের সেই ষড়যন্ত্রই কী যেটা আমরা আশা করেছিলাম, সেটাই কী তারা শুরু করে দিলো?’

‘পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া এই বিএনপি কর্মীর পরিচয় কী’

বিএনপির মনোনয়ন ফরম কেনাকে উদ্দেশ্যে করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পল্টন এলাকায় সৃষ্টি হয় অকল্পনীয় ট্রাফিক জ্যাম। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে তাদেরকে রাস্তা করে দেয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে একটা বিশেষ অংশ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে উস্কানি দেয়। এতে পুলিশের সাথে বচসা, হাতাহাতি এবং ধাওয়া পাল্টাধাওয়া পর্যন্ত গড়ায় ঘটনা।

উত্তেজিত নেতা কর্মীদের ছোঁড়া ইট পাটকেল এবং বেধড়ক পিটুনিতে আহত হয় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। মূহুর্তেই এলাকাটি পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ টিয়ার শেল ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিএনপির নেতাকর্মীদের। কিন্তু এর মাঝেও একদল কর্মী পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়। তেমনই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। পুলিশের পেট্রোল কারে ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মূহুর্তটি ক্যামেরাবন্দি হয় সাংবাদিকদের।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, পুলিশ ওই বিএনপি কর্মীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। সেই সাথে কেউ যদি তার পরিচয় জেনে থাকেন, পুলিশ কন্ট্রোল রুমে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধও জানায় ডিএমপি। ওই কর্মকর্তা জানান, পুলিশ রাষ্ট্রের, মানুষের এবং সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালন করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। পুলিশের ব্যবহার্য প্রতিটি জিনিসই রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এর ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অগ্নিসংযোগে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। অপরাধীকে ধরিয়ে দিয়ে তার উপযুক্ত বিচার করা বাঞ্ছনীয়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply