প্রশাসনে অনু-প্রবেশকারী: কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৫ হাজার বেডের করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নক্সা প্রণয়ন সংক্রান্ত একটি জরুরী সভা আহ্বান করা হয়েছিল গতকাল শনিবার। ভার্চুয়ালি ঐ সভায় সভাপতিত্ব করার কথা ছিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের। এজন্য ১৯ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু আমন্ত্রিতদের নামের তালিকা দেখে চিকিৎসকদের মধ্যে হৈ চৈ পরে যায়।

তালিকায় অন্তত দুজন চিকিৎসকের নাম ছিলো, যারা সরাসরি বিএনপি-জামাতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এদের একজন আবার ‘তারেক জিয়া রক্ষা কমিটির’ আহবায়ক। স্বাস্থ্য সেবা সচিবের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ঐ বৈঠকটি হয়নি। তালিকা দেখেই আঁতকে ওঠেন সবাই। এরকম একটি প্রকল্পে বিএনপি-জামাতের লোকজনকে ঢোকলো কে?

শুধু এই একটি ঘটনাই নয়। বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা এখন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পাচ্ছেন। ঐ দায়িত্ব নিয়ে তারা এমন কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যেখানে সরকারের বদনাম হয়।

এই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই কিছুদিন আগে কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য বিশ্বব্যাংক ও এডিপির অর্থায়নে দুটি প্রকল্প চালু হয়। ঐ প্রকল্প দুটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল একজন বিত’র্কিত ব্যক্তিকে। যিনি এক সময়ে ছাত্রদল এবং ড্যাব করতেন। সেই সাথে প্রায় ৩৬ গুণ অধিক দামে বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। অটোমোবাইল কোম্পানি কর্তৃক মাস্ক সরবরাহ না করে সাড়ে ৯ কোটি টাকা তুলে নেয় তারই মদদে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাকে প্রকল্প থেকে বাদ দেয়া হয়।

কক্সবাজারে মেজর সিনহার ঘটনার অভিযুক্ত ওসি প্রদীপও ছিলো ছাত্রদলের ক্যাডার। বাবরের হাত থেকে সে পদক পায়। আরেক অভিযুক্ত লিয়াকতও শিবিরের ক্যাডার ছিলো। এমনকি কক্সবাজারে সে সময় পুলিশের উর্ধ্বতন পদে কেউ কেউ শিক্ষাজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলো বলে অভিযোগ আছে। বিভিন্ন জেলায় বেশ কিছু এসপি এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অতীত রাজনৈতকি চিন্তা বিত’র্কিত।

প্রশাসনে জেলা প্রশাসক পদেও স্বাধীনতাবিরো’ধী পরিবারের লোকজন, ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা জায়গা করে নিচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে বালিশ কেলেঙ্কারীর হোতা মাসুদ ছাত্রদলের ক্যাডার ছিলো। হাওয়া ভবনে কাজ করা কেউ কেউ এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ পর্যন্ত দখ’ল করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিং’সার রাজনীতি করেনি বলে বিএনপি-জামায়াতের আমলে বিশেষ লবিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরু’দ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা স্বাভাবিক পদোন্নতি ব’ঞ্চিতও হননি কেউ। যার ফলশ্রুতিতে সে সময়কার নিয়োগপ্রাপ্তরা আজ অনেক উঁচু পদে উঠে এসেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ‘অনু-প্রবেশকারী’রা এখন সরকারের বড় ধরণের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছদ্মবেশে সরকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এরা বিত’র্কিত কর্মকান্ড করছেন। এমন সব ঘটনা সৃষ্টি করছেন যাতে সরকারের বদনাম হয়। আপাঃ বিচ্ছি’ন্ন মনে হলেও প্রশাসনে বিএনপি জামাতের লোকজন সংঘব’দ্ধ ভাবেই সরকারের বিরু’দ্ধে গোপন মিশনে নেমেছে।

আওয়ামী লীগে যেমন অনু-প্রবেশকারীরা দলের ভাবমূর্তি ন’ষ্ট করছে, দলের ক্ষ’তি করছে। ঠিক তেমনি সরকারেও বিএনপি-জামায়াত থেকে অনু-প্রবেশকারীরা সরকারকে বিভিন্ন ইস্যুতে বিব্রত করছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিত’র্কিত ব্যক্তিদের যেন গুরুত্বপূর্ণ পদ না দেয়া হয়, সেজন্য উদ্যাগ নিচ্ছে সরকার। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 223
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!