ভান করার পরেও আদালতের নির্দেশে ২ ঘণ্টায় হাজির জি কে শামীম!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

অসুস্থতার ভান করে আদালতে হাজির না হওয়ায় পুলিশ পাঠিয়ে আনা হলো বিত’র্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমকে। দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তার বিরু’দ্ধে মানি লন্ডারিং মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেন। ধার্য করেন অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ।

মানি লন্ডারিং মামলার আসামি ঠিকাদার জি কে শামীম। এই মামলার অভিযোগ আমলে নেয়ার দিন ধার্য ছিল রোববার। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে অনুপস্থিত তিনি। ক্ষু’ব্ধ আদালত দ্রুত জি কে শামীমকে হাজির করার নির্দেশ দেন পুলিশকে। আদালতের নির্দেশনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে হাজির জি কে শামীম। উধাও সব অসুস্থতা। মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক কে এম ইমরুল কায়েসের আদালতে ঘটে এ ঘটনা।

পরে জি কে শামীমের উপস্থিতিতে মামলাটির অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আগামী ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। তবে আদালতের আদেশের পরেও শামীমকে অসুস্থ দাবি করে তাকে আদালতে হাজির করায় ক্ষু’ব্ধ তার আইনজীবী।

এদিকে আদালত চত্বরে জি কে শামীম এর এমন অসুস্থতার ভান ধরা নিয়ে বেশ আলোচনা চলে দিনভর। প্রবীণ আইনজীবীরা জানান, এমন ‘চিকন বুদ্ধির’ যোগানদাতা আর কেউ নয়, স্বয়ং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। যিনি জি কে শামীমের কয়েকটি মামলার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অসুস্থতার দোহাই দিয়ে আদালতে হাজির না হয়ে মামলার সময়সীমা দিনের পর দিন বাড়িয়ে চলার জন্য খালেদা জিয়াকেও বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন বলে কয়েকজন আইনজীবী জানান।

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ডানহাত খ্যাত যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে শামীমকে দলীয় কর্মী হিসেবে পরিচয়দানে অ’স্বীকৃতি জানালেও শেষ পর্যন্ত তার পক্ষ নিয়েছে বিএনপি। তারেক রহমানের ফান্ডে নিয়মিত অর্থ যোগানদাতা জি কে শামীমের পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। এই দুর্নীতিবাজকে রক্ষা করতে কাজ করছে বিএনপি।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখ, শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানব’বন্ধনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছিলেন, “জি কে শামীমদের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশা’লী এমপি-মন্ত্রীরা রয়েছেন। তাই শেষ পর্যন্ত তাদের কিছুই হবে না।”

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জি কে শামীমের বিরু’দ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি। এতে বলা হয়, জি কে শামীমের নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার ইউএসএ ডলার এবং ৭৫২ সিঙ্গাপুরী ডলার জ’ব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫১.৮৩ কাঠা স্থাবর সম্পত্তি জ’ব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক দলিল মূল্য ৪০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!