‘নোয়াখালীর ঘটনার পেছনে থানার ওসিও দায়ী’

0

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনার ১ মাস পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে উদ্যোগী হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয় গত শনি-রোববারে। এরপরই ঘটনাটি জানতে পারে পুলিশ। তা-ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারেনি, কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি, নোয়াখালী জেলার এসপির নজরে এলে তিনি অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং তারপর তৎপর হয় পুলিশ।

এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলকা থেকে প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

স্থানীয় ঘটনা ১ মাসেও কেন তারা জানতে পারলেন না- এই প্রশ্নের জবাবে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের কেউ জানায়নি। কেউ অভিযোগও করেনি। ফলে আমরা জানতে পারিনি। ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হলে আমরা জানতে পারি।

ওসির এই জবাবটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এআইজি এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান সৈয়দ বজলুল করিম। তিনি বলেন, কেউ জানাবে সেজন্য পুলিশের বসে থাকার সুযোগ নেই। অনেক সময় ক্ষমতাধরদের কারণে মানুষ মুখ খোলে না। কিন্তু পুলিশের তো তথ্য সংগ্রহের নিজস্ব চেইন থাকে। গ্রামের চৌকিদারও তাদের তথ্য দিতে বাধ্য। আর এখন থানা পর্যায় পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে।

তার মতে, এজন্য ওই থানার ওসি হারুন অর রশীদ দায়ী। হয় তিনি জেনেও ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য গোপন করেছেন অথবা তিনি থানায় কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে কাটান। তার দায়িত্ববোধ বলে কিছু নেই।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে ১ মাস আগে ঘটনাটি ঘটে ওই নারীর নিজের ঘরে। অপরাধীরা নারীর ঘরে ঢুকে তাকে বি-বস্ত্র করে নির্যা’তন চালায়। তিনি তাদের পা ধরে ‘বাবা’ ডেকেও রেহাই পাননি। এই ঘটনা মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়ও ধারণ করে উল্লাস প্রকাশ করে তারা।

ওই এলাকার ‘দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও বাদল, কালাম এবং আবদুর রহিমসহ তার সহযোগীরা এই নৃশং’স ঘটনা ঘটনায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার সবাই ঘটনা জানতো। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানতেন। কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করেনি। ওই নারীও প্রাণের ভ’য়ে থানায় অভিযোগ করেননি। ঘটনার ১ মাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশীদ জানান, ১ মাস আগের ওই ঘটনা কেউ জানতে না পারলেও অবশেষে মোট দুটি মামলা হয়েছে। একটি নারী নির্যা’তনের এবং আরেকটি প* গ্রাফি আইনে। দুটি মামলাতেই ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওই নারী পারিবারিক সমস্যার কারণে বাবার বাড়িতে এসেছিলেন। সেখানেই ‘দেলোয়ার বাহিনী’ এ ঘটনা ঘটায়। তবে ওসি হারুন অর রশীদ ঘটনার সাথে ওই নারীর স্বামী জড়িত দাবি করে বলেন, তার স্বামীই এই ঘটনার ইন্ধনদাতা। তাদের মধ্যে খারাপ সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। দেলোয়ার বাহিনী সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তারা স্থানীয় একটি ব’খাটে গ্রুপ।

ঘটনার ১ মাস পর ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশের নড়েচড়ে বসা এবং শুরুতেই ওই নারীর পরিবারকে জড়ানোর চেষ্টাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মানবাধিকার কর্মীরা। তারা মনে করেন, আসলে এটা অপরাধীদের সাথে পুলিশের যোগাযোগ থাকার কারণেও ঘটনাটি এতদিন চাপা থাকতে পারে।

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ বলেন, ২০১৫ সালে শিশু রাজন হ’ত্যার ঘটনায়ও আগে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফেসবুকে আসার পর তারা তৎপর হয়। তারা আগে জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তার মতে, পুলিশ একটি অ’কার্যকর এবং রাজনৈতিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। যাদের ক্ষমতা আছে, প্রভাব আছে তাদের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশ নয়। রাস্তায় ১০টা ধ* হলেও তারা ফিরে তাকাবে না। আমাদের মন্ত্রীরা, জনপ্রতিনিধিদের কেউ কি এখন পর্যন্ত বলেছেন প্রতিদিন ধ* হচ্ছে, আমরা লজ্জিত?

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান সৈয়দ বজলুল করিম বলেন, পুলিশ তার দায়িত্ব থেকে অনেকটাই সরে যাচ্ছে। তারা মানুষের জন্য কাজ না করে ক্ষমতার দিকে তাকিয়ে থাকে যার ফল এই ভ’য়াবহ পরিস্থিতি। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

শেয়ার করুন !
  • 453
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!