পুলিশ আসা মাত্রই ‘বড় ভাইদের’ ফোন পায় তারা

0

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনাটি জানাজানি হলে অপরাধীদের রক্ষায় এগিয়ে আসে তাদের রাজনৈতিক ‘বড় ভাইয়েরা’। আসামিদের ধরতে কলেজ গেটে পুলিশ আসা মাত্রই বড় ভাইদের ফোন পায় তারা। এরপরই দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।

রোববার (৪ অক্টোবর) পৃথক আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্টেটমেন্টে দুই আসামি এমনটিই জানিয়েছে। তারা হলেন- মামলার ২নং আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও ৬নং আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম।

আদালত সূত্র জানায়, প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছে তারেক ও মাসুম। তবে দু’জনের বক্তব্যেই আসে ঘটার মূল হোতা ছিল সাইফুর, অর্জুন, রনি আর তারেক। মাসুম ও রবিউল যুক্ত হওয়ার আগেই প্রায় অ’চেতন হয়ে যায় ওই তরুণী। ফলে তারা আর ঘৃ’ণ্য কাজটি করতে পারেনি।

মাসুম ও রবিউল মোটরসাইকেলে এসে শুধু তাদের সহযোগিতা করেছে। তারেক জানায়, এমসি কলেজ গেট থেকে তরুণীকে জোর করে নেয়ার সময় তাকে গাড়ি চালাতে বলে সাইফুর। সে নিজে গাড়ি চালিয়েই তাদের নিয়ে যায় হোস্টেলে।

এর আগে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার বেলা আড়াইটায় তাদেরকে পুলিশি পাহারায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্টেটমেন্ট দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। পরে আদালত তাদের প্রত্যেককে রিফ্রেশমেন্টের জন্য সময় দেন। এরপর পৃথক পৃথক আদালতে তাদের স্টেটমেন্ট নেয়া হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, তারা প্রত্যেকেই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্টেটমেন্ট দিয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, তারেকুল ইসলাম তারেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে, মাহফুজুর রহমান মাসুম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ সাইফুর রহমানের আদালতে স্বীকারো’ক্তিমূলক স্টেটমেন্ট দিয়েছে।

এর আগে শুক্র ও শনিবার মামলার অপর ৬ আসামির রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারো’ক্তিমূলক স্টেটমেন্ট দিয়েছে।

তারা হল- সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, মিছবাউর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিন।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এই ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত সাইফুর, তারেক, অর্জুন, রবিউল, রনি ও মাসুমকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা হয়। মামলার এজাহারের বাইরে আরো ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।

নগরীর বাইরে পলাতক থাকা অবস্থায় মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-৯। মামলায় এজাহারভুক্ত ছয়জন আসামিসহ গ্রেপ্তার হওয়া মোট ৮ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারো’ক্তিমূলক স্টেটমেন্ট দিয়েছে।

এর আগে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গ্রেপ্তার ৮ আসামির প্রত্যেককে ধাপে ধাপে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

শেয়ার করুন !
  • 107
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!