প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ৫টি নির্দেশনা দিলেন

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

উত্তাল সারাদেশ। ধ* এর সর্বোচ্চ সাজা মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের দাবিতে আন্দোলন করেছে ছাত্র-জনতা। এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সরকারও আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সারাদেশে ধ* প্রতিরোধ করার জন্য সরকার সব ধরনের উদ্যোগ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। আর এ ধরনের পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই প্রেক্ষাপটে দু ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রথমত, এর পিছনে অন্য কোনো কারসাজি আছে কি না সেটা খতিয়ে দেখতে হবে এবং যারা এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে তাদেরকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই সামাজিক ব্যাধি নি’র্মূলের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

এই অপরাধ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবন সূত্রে জানা গেছে। এই নির্দেশনা গুলোর মধ্যে রয়েছে:-

১। আইন সংশোধন: ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে নারী ও শিশু নির্যা’তন দ’মন আইন ২০০০ সংশোধন করে ধ* এর সর্বোচ্চ সাজা মৃ’ত্যুদ’ণ্ড করার জন্য। আইন মন্ত্রণালয় এ জন্য কাজ করছে এবং আগামী সোমবার এ সংক্রান্ত একটি বিলের খসরা মন্ত্রীসভায় উত্থাপিত হবে।

২। দ্রুত বিচারে সম্পন্ন করা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রনালয়কে এ ধরনের সামাজিক অপরাধগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য একটি কোর্টকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া কিংবা ফার্স্ট ট্র্যাকে এনে দ্রুত বিচার যেন নিশ্চিত করা হয়, সে ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।

৩। সঠিকভাবে মামলার তদন্ত নিশ্চিত করা: মামলার সুষ্ঠু এবং সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এবং এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কারণ অনেক সময় দেখা যায়, এ ধরনের মামলাগুলো নিয়ে প্রথমে আবেগ উত্তে’জনা থাকলেও পরবর্তীতে এ তদন্তগুলো ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয় এবং সঠিক তদন্ত হয় না, অনেক সময় আলামত পাওয়া যায় না, কেউ সাক্ষী দিতে চায় না। ফলে মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয় না। প্রধানমন্ত্রী এ প্রেক্ষাপটে এ মামলার তদন্ত এবং নির্মোহ ও সঠিকভাবে করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

৪। সামাজিক প্রতিরোধ: ধ* একটি সামাজিক অপরাধ এবং এক ধরনের বি’কৃতি। আর এটি প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় দরকার হলো সামাজিক প্রতিরোধ। আর এ জন্য প্রধানমন্ত্রী পাড়ায় মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগনকে নিয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির ওপর প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৫। নৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মানোন্নয়নের উদোগ: একটি সমাজে যখন নৈতিক অব’ক্ষয় হয়, সমাজে যখন বিপ’র্যয় ঘটে তখনি এ ধরনের ঘটনা বাড়ে। আর এটি প্রতিরোধে সবচেয়ে ভালো উপায় সাংস্কৃতিক মানোন্নয়ন এবং নৈতিক মূল্যেবোধকে জাগিয়ে তোলা। আর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টসূত্রগুলো বলছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালকে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ দিয়েছেন। কিশোর তরুণরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হলে এ ধরণের বি’কৃতির উন্মেষ ঘটবে না তাদের মধ্যে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মানোন্নয়নে একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

ধ* কোনো রাজনৈতিক বিষয় না। সরকারের কোন ব্যর্থতার কারনেও সংঘটিত হয় না। এটি সামাজিক অব’ক্ষয়ের একটি রূপ। এ কারনেই প্রধানমন্ত্রী একে সামাজিকভাবে ও জণজাগরণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করার কর্মপরিকল্পণা গ্রহণ করেছেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 118
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!