গুজব ছড়ানোয় আটক আলোকচিত্রী শহিদুলের মুক্তি

0

আইন আদালত ডেস্ক:

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার ও গুজবে ইন্ধনের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় কারাগারে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার জামিন প্রশ্নে এক মাস আগে অন্য একটি বেঞ্চের দেয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এতে তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

এর আগে ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের নতুন আরেকটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করেছিলেন আইসিটি মামলায় গ্রেফতার আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তার আগে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জামিনের শুনানির জন্য বিচারিক আদালতে পাঠিয়ে দেন। পরে গত ১১ সেপ্টেম্বর নিম্নআদালতে শহিদুল আলমের জামিন নামঞ্জুর করা হয়।

এছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রতবোধ করেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। গত ১২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলছিল তখন ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়। আর এর প্রেক্ষিতেই আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে হামলা হয়, আর তাদেরকে প্রতিহত করার সময় ঘটে সংঘর্ষ। অপরদিকে আওয়ামী লীগের অভিযোগ, হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের পোশাক পরে এলেও তারা ছাত্র ছিল না।

সেদিন আলোকচিত্রী শহিদুল ফেসবুক লাইভে এসে নানা কথা বলার পাশাপাশি কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল জাজিরাকে স্কাইপে দেয়া সাক্ষাৎকারে উস্কানিমূলক এবং ভিত্তিহীন বক্তব্যের মাধ্যমে দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে রয়েছে ‘সরকারের অপশাসন’। বর্তমান সরকারের আমলে দেশে লুটপাট চলছে অভিযোগ করে শহিদুল এমনও বলেন যে, ‘সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে টিকে আছে।’ এসবের ফলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি চক্রান্তের সাথে শহিদুল জড়িত বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানানো হয়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply