জাহাঙ্গীরনগরের মানিক: একটি রাজনৈতিক প্রপাগান্ডার পেছনের গল্প

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ* সেঞ্চুরির কল্পকাহিনী নিয়ে একটি লেখা ফেসবুকে লিখেছিলাম। সেখানে স্পষ্ট করেই বলেছি ছাত্রলীগকে কল’ঙ্কিত করতে ১৯৯৮/৯৯ সালে যে নাটক মঞ্চস্থ করেছিল তখনকার বামপন্থী শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনগুলো, তা ছিল পরিকল্পিত একটি ঘটনা। আমি আবারো বলছি, ওই ঘটনা ছিল পরিকল্পিত। আর এই গুজবের নায়ক ছিলো তারাই, যাদের পূর্ব পুরুষরা বলেছিলো- “বাংলাদেশের মুক্তিযু’দ্ধ হচ্ছে দুই কুকুরের ল’ড়াই।” যাদেরকে এই গুজবের স্রষ্টা হিসাবে আমি অভিযোগ করেছি, তারা একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমি নাকি মিথ্যা বলেছি। কিন্তু কোথায় কোনটা মিথ্যা বলেছি, তা উল্লেখ করেননি অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, রেহনুমা আহমেদ ও মানস চৌধুরী। যাক সে কথা। ওনারা বলবেনই, কারণ অনেকদিন পরে হলেও তাদের সাজানো নাটক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

তারা এটাও বলেছেন যে, হয়তো আবার ২০ বছর পর লিখবো যে বেগমগঞ্জ ও এমসি কলেজে কিছু ঘটে নাই। ওনাদের মেধার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে, কারণ ওনারা শিক্ষক। কিন্তু ওনাদের মানসিকতার প্রতি ওই শ্রদ্ধাটুকু রাখতে পারিনা। তাও বেশি কিছু বললাম না। শুধু এটুকু বলি- বেগমগঞ্জ, এমসি কলেজে ধ* এর শি’কার এবং অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট নাম পরিচয় এবং অভিযোগ আছে। জাহাঙ্গীরনগরে মানিকের নামে কার অভিযোগ ছিল? একটা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা বলেন তো? আপনারা বেগমগঞ্জ ও এমসি কলেজের উদাহরণ দিয়েছেন কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী যে নাম পরিচয় দিয়ে ধ* এর মামলা করেছে সেটার উদাহরণ দিতে লজ্জা পেলেন কেন? ওই ধ* নুরু গং’রা আপনাদের পালিত মানসপুত্র বলে? আর এ জন্যই মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি।

আপনারা ওই সময়কার পত্রিকার নিউজ দেখার কথা বলেছেন। হ্যাঁ, নিউজ সবই দেখেছি, সবই পড়েছি। সব নিউজই ছিল আপনাদের বক্তৃতাবাজি আর মিছিল মিটিংয়ের নিউজ। কোনো ভিক্টিমের অভিযোগের নিউজ ছিল না। কিছু বেনামি অভিযোগ জমা হয়েছিল, যা আপনাদের গং’রা লিখে জমা দিয়েছিল। কোনো নাম ঠিকানা ছিল না।

আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা করেছি। তখন অনেক কিছুই দেখেছি। ওই ধ* বিরো’ধী আন্দোলন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এনেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও অচল করে দেয়ার জন্য ডাকসু ভবনে তারা মিটিংও করেছে। রাতের বেলা তাদের গোপন মিটিং করতেও দেখেছি। দেশের কোন পত্রিকার কোন সাংবাদিককে এই আন্দোলন জমানোর জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, এর সবই নিজ চোখে দেখা। আমরা অধিকাংশ সাংবাদিকরা আগেই জেনে গিয়েছিলাম বলে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন সফল হতে পারেনি, ২/১টা বাদে মিডিয়ার সমর্থনও পায়নি। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরের মিডিয়ার ব্যক্তিরা শুধু তা সমর্থন করেনি, অনেক ক্ষেত্রে তারা তা তৈরী করেছিল।

জাহাঙ্গীরনগরের সাংবাদিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি (এখন বিসিএস ক্যাডার) এবং তার তৎকালীন প্রেমিকা (ঐ আন্দোলনের নেত্রী, এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক) সাংবাদিক সমিতির অফিসে বসে মনের মাধুরী মিশিয়ে ধ* আন্দোলনের রিপোর্ট লিখতেন। সেই রিপোর্টগুলোই বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠানো হতো। তখনকার একটি বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানিয়েছেন, তাদেরকে ওই রিপোর্ট পত্রিকায় পাঠাতে বাধ্য করা হতো। নতুবা সাংবাদিক সমিতির সদস্যপদ দেয়া হবে না বলে ওই সভাপতি হুম’কি দিতেন। ঐ সময়ে বোটানিক্যল গার্ডেনের একটি ঘটনাকে টেনে ছাত্রলীগের ওপর এনে ছাত্রলীগকে কল’ঙ্কিত করা হয়। আর ছাত্রলীগের স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক হয়ে ছাত্রদল থেকে আসা মানিক ঐ সময়ে একটি জমকালো পার্টি দিয়েছিলো। সে পার্টিকে টাইমিং করে ধ* এর সেঞ্চুরি উৎসব বানিয়েছিলেন আপনারা, ছাত্রলীগকে কল’ঙ্কিত করতে।

ছাত্র ইউনিয়নে আমার অনেক বড় ভাই বন্ধু ও ছোট ভাইও আছে। মধুর ক্যান্টিন টিএসসিতে একসাথে আড্ডাও দিতাম। ছাত্রলীগ করলেও তারা যখন একটা চাঁদার রশিদ ধরিয়ে দিতো তাও দিতাম। তা শুধুই সম্পর্ক ও ভালোবাসার কারণে। আমার আগের লেখাটি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর শাখা ছাত্র ইউনিয়নও একটি বিবৃতি দিয়েছে। অনেক বড় বিবৃতি। এক জায়গায় তারা বলেছে, আমি নাকি ওই সময়ের সেই পবিত্র আন্দোলনকে বিত’র্কিত করেছি। তাই নাকি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু আপনারা যে ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অ’ভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযু’দ্ধে নেতৃত্ব দেয়া একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনকে বার বার কল’ঙ্কিত করার চেষ্টা করেন তখন আপনাদের বিবেকে বাধে না? ওই আন্দোলনের নেপথ্যের কাহিনী জনসম্মুখে বলে দেয়ার জন্য আমার যদি ক্ষমা চাইতে হয় তাহলে এই অপরাধে আপনাদের মতো আরো যারা ষড়’যন্ত্ৰকারী আছে তাদের কী করা উচিত?

যখন আপনাদের সংগঠনের নেত্রী জলি তালুকদার দলের নেতা দ্বারা ধ* হয়ে বিচার চেয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনশন করেছিল তখন আপনাদের বিবেক কোথায় ছিল?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা কবির বীথি যখন নুরু গংদের বিরু’দ্ধে ধ* এর মামলা করে অ’সহায়ের মতো ঘুরেছে তখন আপনাদের বিবেক কোথায় বন্ধক রেখেছিলেন?

আপনাদের সংগঠনের নেতা যখন জামায়াত নেতার মুখে বক্তৃতার সময় মাইক্রোফোনে ধরে রাখে, তখনতো মনে হয় আপনারা জামায়াতের এজেন্ট হয়ে ছাত্র ইউনিয়নের মত একটি প্রগতিশীল সংগঠনে ঢুকেছেন।

যাই হোক ঐ সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের একজন পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়র ডিনও হয়েছেন; যারা সবসময় শিক্ষাকে পণ্য করা চলবে না বলে শ্লোগান দিতো। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার খরচ কত তা সবাই জানি। এই লেখায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন টেনে এনেছি তা পরের আরেকটি লেখায় হয়তো লিখবো।

লেখক: আশরাফুল আলম খোকন
পরিচিতি: উপ-প্রেস সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

শেয়ার করুন !
  • 147
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!