খালেদার যোগ্যতা ও সরকারের সাথে সমঝোতা নিয়ে মুখ খুললেন শাহ মোয়াজ্জেম (ভিডিও)

0

সময় এখন ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপার্সনের আপসহীন ভাবমূর্তি নিয়ে গত ২ অক্টোবর বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসি নিউজে প্রতিবেদন প্রচারের পর দলের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলের দুই ভাইস-চেয়ারম্যানের বক্তব্য ঘিরে চলছে সমালোচনার ঝড়।

বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা ও নির্বাহী আদেশে জেল থেকে বের হওয়ার পর চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আপোসহীন ভাবমূর্তি নিয়ে দল কী ভাবছে, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয় ২ অক্টোবর। যেখানে দলের দুই জ্যেষ্ঠ নেতার পাশাপাশি রাজনীতি বিশ্লেষকের মতামতও তুলে ধরা হয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন তার বক্তব্যকে অ’সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে দাবি করে ডিবিসি নিউজে প্রতিবাদ লিপি পাঠান। তবে ডিবিসি নিউজ তার বক্তব্য আংশিক তো নয়ই, বরং তিনি যা বলেছিলেন তা-ই প্রচার করেছিল। তিনি বলেছিলেন, আপসহীন ঠিক আছে, কিসের আপসহীন? আপস না করলে উনি আসলেন কীভাবে? আপস না করে বেরিয়ে আসলেন কী করে? সরকারের কথা শুনেই তো বের হয়ে আসলেন। আপসহীন হলে তো বলতো- আমি বের হব না।

শাহ মোয়াজ্জেম আরো বলেছিলেন, ‘শুনি যে খুব নাকি অসুস্থ। খুব যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে কীভাবে করবে। তারপরে রাজনীতি করার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। লেখাপড়া জানা দরকার, সেটা নাই। অভিজ্ঞতা দরকার, সেটা নাই। হ্যাঁ, জিয়া যখন মা’রা গেছেন তখন বউ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এই তো। দ্য ওনলি কোয়ালিটি এন্ড দ্য ওনলি ক্রিডেনশিয়াল ইজ দ্যাট শি ইজ দ্যা উইডো অব জিয়াউর রহমান। এ কারণেই তো ৩ বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর সেই জিয়াউর রহমানের হ’ত্যার বিচারটা হলো না কেন।’

সেই সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছেন, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত আল্লাহ বলতে পারবেন, আমি কীভাবে বলবো। উনি রাজনীতি করেছেনই বা কবে, আর রাজনৈতিক ভবিষ্যত কী? উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত রাজনীতি, লেখাপড়া না জানা একজন মহিলা, আমি তো কোন রাজনীতি দেখলাম না তার। আমি যতদিন দেখলাম। আমার কোন কথা সে রাখলো না। একটা রাজনৈতিক লোকের প্রথম কথা হলো, কথা রাখতে হবে।

এদিকে এই সাক্ষাৎকার প্রচারের পর দলের ভেতর থেকে দাবি উঠেছে, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরু’দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, আমরা শ্রদ্ধেয় এই নেতার কথায় অত্যন্ত ম’র্মাহত হয়েছি। উনি উনার বক্তব্য প্র’ত্যাহার করবেন। অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের জোরালো দাবি রইলো।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় বলেন, যারা এরকম বিত’র্কিত বক্তব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত, আমি মনে করি দলে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকমণ্ডলী থেকে এর একটা প্রতিবাদ বলেন বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা দেখবো বলে আশা করছি।

ডিবিসি নিউজের সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি:

শেয়ার করুন !
  • 382
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!