আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে চরম ধাপ্পাবাজি দাবি করলেন রিজভী

0

সময় এখন ডেস্ক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মতে দেশে ধ* এর সর্বোচ্চ সাজা মৃ’ত্যুদ’ণ্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন- প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, ধ* এর অপরাধের সাজা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া (আইন সংশোধন) শুরু করার জন্য। তাই সাজা বাড়াতে আইন সংশোধন করার যে প্রক্রিয়া তা আমরা শুরু করে দিয়েছি। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চরম ধাপ্পাবাজি। দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যা’তনের বিরু’দ্ধে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠছে সেই আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্যই নতুন আইন তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিদ্যমান যে যাবজ্জী’বন সাজার বিধান আছে সেটি প্রয়োগ হয়নি কেন? কারণ বর্তমান সরকার অ’বৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় নানা অপরাধ মহামা’রীর আকার ধারণ করেছে। সুতরাং অপরাধীদের অধিকাংশই পার পায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। তাদের সাজা দেয়া দূরের কথা, বরং রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ফাঁ’সির আসামিকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। ফলে অপরাধীরা যা খুশি তাই করার উৎসাহ পাচ্ছে। অপরাধ করে রেহাই পাওয়ার সংস্কৃতির জন্যই দেশে সামাজিক অপরাধগুলো জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অপরাধ করলে পার পাওয়া যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে আটক করে না- এটি যেন দেশের অ’লিখিত বিধান হয়ে গেছে। দেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমার (স্টেট ক্লিমেন্সি) কারণে অপরাধীরা রেহাই পাওয়াতে তারা এখন সমাজে প্রভু হয়ে বসেছে। অপরাধ করাকে তারা নিজেদের অধিকার মনে করছে।

তিনি বলেন, গতকাল চাঁদপুর ও জয়পুরহাটের কালাইয়ে দু’টি পৌরসভা নির্বাচন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৪ নং ওয়ার্ডে কমিশনার নির্বাচনে ব্যাপক অ’নিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হলেও সেসব এলাকায় বিএনপির এজেন্ট ও ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। চাঁদপুরে পৌর নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তাদের ওপর আওয়ামী কর্মীরা হাম’লা চালিয়েছে। সেখানে আওয়ামী কর্মীরা বিএনপির ২০/২৫ জন নেতাকর্মীসহ ভোটারদের আহত করেছে। জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভায় এ পর্যন্ত কোনোদিন নৌকা প্রতীক বিজয় লাভ করেনি। কিন্তু সেখানে এবার জোর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী কর্মীরা যৌথভাবে নৌকায় সিল দিয়ে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।

রিজভী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কেবল একটি মাত্র ওয়ার্ডের ভোট, সেটিও তারা জোর করে কেন্দ্র দখ’লের মাধ্যমে ছিনিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আজ দেশব্যাপী বিভিন্ন অপরাধে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকেই লিপ্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে, অথচ সরকার এ বিষয়ে চুপ। নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু ভোট ও গণতন্ত্রের সর্বনা’শ করে যাচ্ছেন নিরন্তরভাবে। উল্লিখিত নির্বাচনী ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করল- বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে দেশের সকল নির্বাচনের সর্বনা’শ ঘটতেই থাকবে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!