বগুড়ার বিএনপির সেই এমপির কাণ্ডের শেষ নেই!

0

সময় এখন ডেস্ক:

তিনি আগে চলাফেরা করতেন একটি পুরোনো মোটরসাইকেলে। সংসদ সদস্য হওয়ার ২ মাস পরই ৩৪ লাখ টাকা খরচ করে কেনেন একটি আধুনিক গাড়ি। এরপরই বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুকে নিয়ে আলোচনা শুরু।

ক’দিন আগে পি’স্তলসহ ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাল হন তিনি। গত শুক্রবার থেকে এমপির সেই ছবি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই শনিবার তার টাইমলাইনে মিলেছে অ’শ্নীল ছবির সন্ধান। ছবির বিষয়টি নিয়ে ওইদিনই তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বাবলু।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান। কীভাবে ন’গ্ন ছবি নিজের ফেসবুকে গেল- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজাউল করিম বাবলু বলেন, হয়তো কেউ আমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড জেনে গেছে। এরপর ওই ব্যক্তি ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রথমে অ’স্ত্রের ছবি ও পরে ন’গ্ন একটি ছবি দিয়েছে। পরে আমি ওই ন’গ্ন ছবি ডিলিট করে দিয়েছি। তবে আমার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়নি।

এমপি আরো জানান, মাসখানেক আগে লাইসেন্স পাওয়ার গত এক সপ্তাহ আগে তিনি পি’স্তল কিনতে মতিঝিলের ‘আলী আর্মস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে যান। সেখান থেকে ৭৫ হাজার টাকায় এটি কিনেছেন। কেনার সময় তার সঙ্গে ৫/৭ জন কর্মী ছিল। তারা সব সময় তার সঙ্গে থাকে। দোকানে বসে সেটি নেড়েচেড়ে দেখার সময়ই হয়তো কোনো কর্মী ছবি তুলে ফেলেছিল, যা পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে যায়।

রেজাউল করিম বাবলু আরো জানান, এই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই তাকে ফোন করেছেন। জনসমক্ষে প্রদর্শন বা কাউকে লক্ষ্য করে সেটি তাক করেননি দাবি করে বলেন, যেখান থেকে কিনেছি, সেই জায়গাটি কাচের গ্লাসে আবৃত। যখন আমি এটি দেখছিলাম, তখন গ্লাসের বাইরে থেকে কেউ আমার ছবি তুলেছিল।

তেজগাঁও থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, এমপি একটি জিডি করেছেন। কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত, আমরা খুঁজে দেখব।

‘আগ্নেয়া’স্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬’-এর বিধানে বলা আছে, ব্যক্তি পর্যায়ে লাইসেন্স পেতে হলে পরপর ৩ বছর ৩ লাখ টাকা আয়কর দিতে হবে। শ’টগানের জন্য ন্যুনতম ১ লাখ টাকা আয়কর দেওয়ার বিধান আছে। তবে এমপি, সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এই নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২৫(গ) ও ২৫(ক) অনুযায়ী লাইসেন্স থাকলেও প্রদর্শন না করার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। জানা গেছে, এমপি বাবলু গত বছর ১ লাখ ২ হাজার টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন।

এলাকায় রেজাউল করিম বাবলু ‘গুলবাগী’ হিসেবে পরিচিত। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনটি ‘বিএনপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। এটিকে ‘জিয়া পরিবারের আসনও’ বলা হয়ে থাকে। ১৯৯১-২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় নির্বাচনেই এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির প্রভাবাধীন ওই আসনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বাবলুর এমপি হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

এমপি হওয়ার আগে প্রায় অ’খ্যাত ছিলেন তিনি। গত নির্বাচনে বিএনপি গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটন মনোনয়ন পান। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় তার প্রার্থীতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একেবারে শেষ পর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু ওরফে ‘গুলবাগী বাবলু’কে সমর্থন দেয় বিএনপি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ১ লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন বাবলু।

ওই নির্বাচনের আগে কমিশনে জমা দেয়া নির্বাচনী হলফনামায় রেজাউল করিম বাবলু বলেছিলেন, তার বার্ষিক আয় কৃষি থেকে ৩ হাজার এবং ব্যবসা থেকে ২ হাজারসহ মোট ৫ হাজার টাকা! এছাড়া তার কাছে আছে ৬ ভরি স্বর্ণ। নির্বাচনে প্রার্থীতার আগে জমানো টাকা ছিল ৩০ হাজার। চলাফেরা করতেন একটি পুরোনো মোটরসাইকেলে।

শেয়ার করুন !
  • 111
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!