অতঃপর নুরুর কাঁধে সওয়ার বিএনপি!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বিএনপিতে এখন নুরুর কদর বেড়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতৃবৃন্দ এখন ডাকসুর সাবেক নেতা নুরুর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাকে ধ* বিরো’ধি আন্দোলন অ’ব্যাহত রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার জন্য যে টাকা পয়সা লাগবে, সেটাও জোগাড় করে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

দৃশ্যতঃ সরকার প’তনের আন্দোলনে বিএনপি এখন নুরুর কাঁধে সওয়ার হতে চাইছে। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে আন্দোলন চলছে। ধুঁকতে থাকা বিএনপি, এই ইস্যুতে একদিকে যেমন দলকে চাঙ্গা করতে চাইছে অন্যদিকে সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে।

কিন্তু কো’ন্দল ও হতা’শায় বি’ভক্ত বিএনপির নিজে আন্দোলন করার শক্তি নেই। গত সপ্তাহে বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বেশ কিন্তু আন্দোলনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই আন্দোলন জনগণের মনে রেখাপাত করতে পারেনি। এমনকি নিজস্ব নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণও ছিলো হতা’শাজনক।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা স্বীকার করেছেন, ‘বিএনপির ধ* বিরো’ধী আন্দোলনে জনগণ অংশ নিচ্ছে না। এই ইস্যুতে বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে তোলার সক্ষমতা বিএনপির এখন নেই।’ অন্যদিকে, একই ইস্যুতে নুরুর নেতৃত্বাধীন ছাত্র অধিকার পরিষদ একের পর এক কর্মসূচী পালন করছে। শাহবাগে পালিত হয়েছে ধ* বিরো’ধী মহাসমাবেশ। সেখান থেকে ৯ দফা দাবীতে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচী এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ অভিমুখে লং মার্চ।

বিএনপি দেরী না করে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দিয়েছে। ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তারা যেন এই কর্মসূচীতে যোগ দেয়। এমনকি বাম সংগঠনগুলো পর্যন্ত নুরুর সাথে মিলে গেছে এখন। এভাবে নুরুর আন্দোলনে ভর করে বিএনপি এবং সরকারবিরো’ধী পক্ষ ‘কিছু একটা’ করতে চাইছে।

অবশ্য অন্যের ঘাড়ে ভর দিয়ে সরকার বিরো’ধী আন্দোলনের চেষ্টা বিএনপির জন্য নতুন নয়। এর আগেও জামায়াত নেতা দেইল্যা রাজাকার ওরফে সাইদীর ফাঁ’সির আদেশ বাতিলের দাবীতে জামায়াতের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল বিএনপি। আল্লামা শফীর ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচীতেও বিএনপি নেতারা যোগ দিয়েছিলেন।

কোটা বিরো’ধী আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকেও অন্য খাতে নিতে বিএনপি কম চেষ্টা করেনি। ঐ সব আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের প’তন হয়নি। এবারও বিএনপি একই পথে হাটছে। কিন্তু দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল যদি নিজেরাই জনগণকে সংগঠিত করার ক্ষমতা ও যোগ্যতা হারায়, তাহলে ঐ রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠে।

এদিকে বিএনপির ভেতরে ভাঙনেরও আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেমের বক্তব্য নিয়ে চলছে দলের ভেতরে বাইরে তোলপাড়। রাজনৈতিক জ্ঞান না থাকা, পড়ালেখা না জানা এবং একজন সামরিক কর্মকর্তার স্ত্রী হওয়ার সুবাদে দলের দায়িত্ব নিয়ে চেয়ারে বসে যাওযার প্রসঙ্গ তুলে খালেদা জিয়ার অ’যোগ্যতার দিকে আঙুল তুলেছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

এমনকি সরকারের সাথে আঁতাত করার মাধ্যমে নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় বরণ করা, শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে শর্ত মেনে সাজা স্থ’গিত করার মাধ্যমে আপস করেছেন খালেদা জিয়া- এমন বক্তব্যও দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান।

তার এমন বক্তব্যের জেরে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি শাহ মোয়াজ্জেমকে পদচ্যুত করা, তাকে দল থেকে বের করে দেয়া এবং সাংগঠনিকভাবে তার বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য, কার্য নির্বাহী কমিটির কয়েকজন নেতাসহ অনেকেই।

সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর থেকে কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা রাজনীতিবিদ শাহ মোয়াজ্জেম এখন হয়ত বিএনপির ভবিষ্যত অন্ধকার দেখে রাস্তা বদলাতে চাইছেন। কিংবা বিএনপির আরেক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর মত শেখ হাসিনার আনুগত্য কামনা করতে চাইছেন। কেউ কেউ এমনটাও বলছেন, শাহ মোয়াজ্জেম হয়ত ভিন্ন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম গড়ার কথা ভাবছেন। তবে সময়ই বলে দেবে, বিএনপির ভবিষ্যত কী।

শেয়ার করুন !
  • 126
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!