পাপিয়া-সুমনের মামলার রায় রাজনীতিবিদদের জন্য বার্তা: বিচারক

0

সময় এখন ডেস্ক:

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহি’ষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের বিরু’দ্ধে অ’স্ত্র আইনে করা মামলার দুটি ধারায় মোট ২৭ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, পাপিয়া ও সুমন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের রাজনীতিবিদ বলা যায় না। বরং তারা তথাকথিত রাজনীতিবিদ। তারা নিজেদের কল্যাণে রাজনীতি করেছেন। কোনোভাবেই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করেননি। এটা রাজনীতির জন্য কল’ঙ্কজনক। এ রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটা বার্তা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া আরেকটি ধারায় তাদের ৭ বছরের সাজার আদেশ দেন আদালত। দুই ধারার সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

রায় ঘোষণার আগে পাপিয়া ও সুমনকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। রায় পড়ার সময় পাপিয়া নীরব ছিলেন। বিচারক যখন তাদের সাজার আদেশ দেন তখন পাপিয়া কান্নায় ভে’ঙে পড়েন। এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে কাঠগড়া থেকে প্রিজনভ্যানে করে জেলের উদ্দেশে নিয়ে যান।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেন র‌্যাব সদস্যরা। তারা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)। তাদের কাছ থেকে ওই সময় ৭টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর ওইদিন রাতেই নরসিংদীর বাসায় এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া ফার্মগেট এলাকার ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে অবস্থিত রওশন’স ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পি’স্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গু’লি, ৫ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় অ’স্ত্র আইনে একটি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।

গত ২৯ জুন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের উপ-পরিদর্শক আরিফুজ্জামান পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুরের নামে চার্জশিট দাখিল করেন। ২৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ তাদের বিরু’দ্ধে চার্জ গঠন করেন। এ সময় তারা নিজেদের নি’র্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন। ৩১ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ১২ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনই আদালতে সাক্ষ্য দেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!