হোটেল কক্ষে মৃত পাওয়া গেছে বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনকে‍!

0

সময় এখন ডেস্ক:

রাজধানীর একটি হোটেল থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী চিত্রগ্রাহক-আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (১ ডিসেম্বের) সকাল সাড়ে ১০টায় পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হেভেনের একটি কক্ষ থেকে পুলিশ এই বিশ্বনন্দিত গুণিজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ফ্রান্স প্রবাসী এই চিত্রগ্রাহক পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। একটি ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে তিনি দেশে ফেরেন সম্প্রতি।

ঘটনাস্থলে পুলিশের উর্ধ্বতনরা উপস্থিত আছেন। শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের এএসআই তপন বলেন, ‘সকালে হোটেলটির ব্যবস্থাপক ফোন দিয়ে জানায়, আনোয়ার হোসেনের কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ। ফোন বা ডাকাডাকি করেও তার কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর আমরা এসে দরজা ভেঙ্গে মৃতদেহটি পাই। সুরহতাল করার পর তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

হোটেল ওলিও ড্রিম হেভেন থেকে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর এ হোটেলের ৮০৯ নম্বর কক্ষে তিনি ওঠেন। ফিনিক্স ফটোগ্রাফি সোসাইটি নামের একটি আলোকচিত্রী প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করছিলেন আনোয়ার হোসেন। সপরিবারের ফ্রান্সে থাকলেও এই প্রতিযোগিতার জন্য তিনি দেশে এসেছিলেন।

তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজকরা। তারাই প্রতিদিন তাকে নিয়ে যেতেন এবং পৌঁছে দিতেন।

প্রতিযোগিতাটির সঙ্গে যুক্ত আসাদুজ্জামান সবুজ জানান, আয়োজনের ছবি নির্বাচনের জন্য কাজ করছিলেন আনোয়ার হোসেন। গত কয়েকদিনের মতো আজ রবিবার সকালে সাড়ে ৭টার দিকে তার (আনোয়ার) সঙ্গে দেখা করে ছবি বাছাইয়ের কাজ করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সেটা রিসিভ হচ্ছিল না। এরপর প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্তৃপক্ষের দুজন ব্যক্তি হোটেলে এসে ফোন দিয়ে ও দরজায় নাড়া দিয়েও কোনও সাড়াশব্দ পাননি। এরপর পুলিশকে খবর দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।

বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দরজা ভাঙলে ভেতরে আনোয়ার হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

ছোটবেলায় আঁকাআঁকির মাধ্যমেই রঙের দুনিয়ার সাথে পরিচয় ঘটে এই বরেণ্য আলোকচিত্রীর। ভর্তি হয়েছিলেন বুয়েটের স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগে, কিন্তু স্থপতি হওয়ার পাঠ না চুকিয়েই সিনেমাটোগ্রাফি পড়তে চলে যান ভারতের পুনেতে। ক্যামেরা হাতে কাজ করেছেন ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ এর মতো বিখ্যাত সব চলচ্চিত্রে। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা।

চিত্রগ্রাহক পরিচয়ের চেয়েও তিনি খ্যাতিমান ছিলেন আলোকচিত্রী হিসেবে। দেশের বাইরেও তার সে খ্যাতি আছে। তার হাত ধরেই এদেশের তৈরি হয়েছেন অসংখ্য আলোকচিত্রী।

আনোয়ার হোসেনের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো হলো- সূর্যদীঘল বাড়ী (১৯৭৯), এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী (১৯৮০), পুরস্কার (১৯৮৩), অন্য জীবন (১৯৯৫), লালসালু (২০০১) প্রভৃতি।

শেয়ার করুন !
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!