খালেদাসহ অপর সাজাপ্রাপ্তদের প্রার্থীতা বাতিল করেছে আপিল বিভাগ

0

সময় এখন ডেস্ক:

সাজাপ্রাপ্তদের নির্বাচনের অংশগ্রহণ করার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো দোটানায়। বিচারিক আদালতের সাজা স্থগিত করিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে বলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়েছে। ফলে যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পাওয়া সাবিরা সুলতানার ভোটে আসা আটকে গেল। এই আদেশ বহাল থাকলে দণ্ডিত কারো পক্ষে ভোটে আসা যাবে না। ফলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের শীর্ষস্থানীয় দেড় ডজনের মতো নেতার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।

গত বৃহস্পতিবার সাবিরার দণ্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আদেশ দেয় যে, আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিস্পত্তির আগে কেউ দণ্ডিত বলে গণ্য হবেন না। আর আপিল চলাকালে কারও দণ্ড স্থগিত করার ক্ষমতা হাইকোর্টের আছে।

এর আগে বিএনপির ৫ নেতা আমান উল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মসিউর রহমান ও আবদুল ওহাবের দণ্ড স্থগিতের আবেদন প্রথমে হাইকোর্ট বিভাগ নাকচ করে, এরপর আপিল বিভাগ দেয় ‘নো অর্ডার’। এই আদেশের ফলে তাদের ভোটে আসার পথ আটকে যায়। পাশাপাশি খালেদা জিয়াকেও ভোটের বাইরে থাকতে হবে বলে জানান দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম।

কিন্তু সাবিরার বিষয়ে ভিন্ন আদেশে বিএনপিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়। আর আজকের শুনানিতে কী আদেশ আসে, এ বিষয়ে দৃষ্টি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অনুসারীদের।

ভোটে আসতে ৩শ আসনে জমা পড়া ৩ হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হবে রবিবার। তার আগেই উচ্চ আদালতে বিষয়টির মীমাংসা চাইছে দুই পক্ষই। সাবিরার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করতে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনই চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর শনিবার হয় শুনানি।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

সাবিরার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগামীকাল (রবিবার) সকাল নয়টা পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়েছে। আদালত বলছে, এটা যেহেতু আইনগত প্রশ্ন জড়িত, এ জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি প্রয়োজন।’

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উদ্দীন। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান ও এ বি এম বায়েজিদ।

সাবিরার পক্ষে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ২ বছরের দণ্ড হলে দণ্ড ভোগের ৫ বছর পার না হলে তিনি ভোটে অযোগ্য হবেন। কিন্তু আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে দণ্ডিতরা ভোটে আসতে পারেননি এমন উদাহরণের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশেও একাধিক দণ্ডিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিতেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড পাওয়ায় তিনি ভোটে আসতে পারবেন কি না, এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে। অনিশ্চয়তার মধ্যেই ৩টি আসনে তাকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। অবশ্য রাখা হয়েছে বিকল্প প্রার্থীও।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!