নোবেল জয়ী ড. ইউনূস বাংলাদেশকে কী দিয়েছেন?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

২০০৬ সালের এই দিনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিতে নোবেল জয় করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার নোবেল জয় কতটা তার কাজের স্বীকৃতি, কতটা দেনদরবার বা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের লবিংয়ের ফল সে বিত’র্কে না-ই বা গেলাম। কিন্তু প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিতে ড. ইউনূস এর নোবেল জয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটা গর্বের বিষয়। তবে লক্ষণীয় ব্যাপার, ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল কেবল ড. ইউনূস একাই পাননি। তার সঙ্গে পেয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকও। কিন্তু ড. ইউনূসের আভিজাত্য এবং কথার মাধুর্যের কাছে গ্রামীণ ব্যাংক গ্রাম্যেই থেকে গেছে, পর্দার আড়ালে চলে গেছে।

এই নোবেল শান্তি পুরস্কার যে ভাগাভাগি করে দুজনকে দেয়া হয়েছিল সেই তথ্য এখনও বা ক’জন জানে? তারপরও ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং গ্রামীণ ব্যাংক দুটি একসূত্রে গাঁথা। ইউনূসের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের নোবেল পুরস্কার ভাগাভাগির পুরোটাই ইউনূসের পকেটে গেছে সাধারণ মানুষের চোখে।

যে কোনো দেশে যখন একজন মানুষ নোবেল পুরস্কার পান, তা যে কোনো বিষয়েই হোক, সেই দেশকে আলোকিত করার বিষয়ে ভূমিকা রাখে। সেই দেশের তরুণরা উৎসাহিত হয়, তরুণদের সামনে নোবেল জয়ী একজন আদর্শ হন এবং নতুন নতুন চিন্তা, গবেষণা এবং বিজ্ঞানমনস্কতা তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করে। একটি সমাজ ঋ’দ্ধ হয় এবং নতুন সম্ভাবনা, নতুন উদ্দীপনার প্রেরণা পায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর আমরা কি তেমন কিছু পেয়েছি?

ভারতের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দু’জন। ভারতে নোবেল পুরুস্কার পেয়ে ড. অমর্ত্য সেন প্রতিচি ফাউন্ডেশন করেছেন। অমর্ত্য সেনের নোবেল পুরস্কারকে ধারণ করে পরবর্তীতে অনেকেই অনেক ভাল কাজ করেছেন। অনেক গবেষণা হয়েছে। বিজ্ঞান ও অর্থনীতি গবেষণায় ভারত এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার তৈরি করেছে অমর্ত্য সেনের হাত ধরে। কিন্তু বাংলাদেশ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ড. ইউনূস তেমন কিছু করেছেন কি না সে নিয়ে প্রশ্ন করা যেতেই পারে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের টাকাটা তিনি কী করেছেন, সে এক প্রশ্ন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের টাকা দিয়ে তিনি জনকল্যাণ বা শিক্ষা গবেষণা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়না।

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের শান্তিতো নয়, বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রেও তিনি কোনো ভূমিকা পালন করেছেন এমন তথ্য আমাদের হাতে নেই। বরং নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরপরই আমরা দেখি তীব্র অর্থলিপ্সা এবং নিজেকে জাহির করার এক প্রাণান্তকর চেষ্টা ড. ইউনূসকে পেয়ে বসেছে। পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে বিভিন্ন রকমের বক্তৃতা দিচ্ছেন সামাজিক ব্যবসার নামে। তিনি তার ব্যবসায়িক পরিধি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করেছেন। বিশ্বে এখন যদি অর্থনৈতিকভাবে সফল ব্যক্তিদের তালিকা করা হয় তার মধ্যে প্রথম দিকে থাকবে ড. ইউনূসের নাম।

বাংলাদেশের কোনো সং’কটে তাকে পাওয়া যায় না। তিনি তরুণদের জন্য বক্তৃতা দেন না, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তিনি সাক্ষাৎকার দেন না, সব সময় তিনি বিদেশি তরুণদের জন্য উদ্দীপনামূলক বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি ‘সামাজিক ডলার’ পেয়ে সামাজিক ব্যবসার ওপর বক্তৃতা রাখেন। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তিনি নীরবতা পালন করেন।

ড. ইউনূস বাংলাদেশকে কী দিয়েছেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে একরাশ হতাশাই দেখা যাবে। কারণ বাংলাদেশকে দেয়ার মত কোনো উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব ড. ইউনূস গড়ে তুলতে পারেননি। কেন পারেননি সে প্রশ্নের উত্তর ড. ইউনূসই ভালো দিতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ নিয়ে যে তার তীব্র অ’নীহা, উদাসীনতা এবং ঘৃণা রয়েছে, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয়না।

সময় সুযোগ পেলেই তিনি বিদেশে পাড়ি দেন। সময়-সুযোগ পেলেই তিনি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন, সময়-সুযোগ পেলেই তিনি বিদেশের আতিথ্য গ্রহণ করেন। অনেকগুলো বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি আচার্য কিংবা এ জাতীয় পদ আসীন করে আছেন। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ড. ইউনূসের পদধূলি পড়েনি। একজন নোবেলজয়ী তার নিজের দেশকে যেভাবে উ’পেক্ষা করতে পারেন তার একটা ভালো উদাহরণ ড. মুহাম্মদ ইউনুস। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!