আবারও ইনফরমেশন গ্যাপের গ্যাঁড়াকলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনলাইনে যুক্ত হন প্রধান অতিথি হিসেবে। যৌথ গবেষণার অন্যতম অংশীদার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

সোমবার রাজধানীর একটি আভিজাত হোটেলে রাজধানীর করোনা নিয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ গবেষণা প্রতিবেদনে সরকারকে রীতিমতো ‘মিথ্যাবাদী’ বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ৮ মার্চে নয়, ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার প্র’কোপ শুরু হয়েছিল। ঢাকা শহরের প্রায় ৪৫ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রা’ন্ত। এমন এক সময়ে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হলো যখন সরকার করোনাকে পাশ কাটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছে।

স্পষ্টতঃ সরকারকে বিব্রত করতেই এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, স্বাস্থ্যসেবা সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম বলেছেন, এই গবেষণা বস্তুনিষ্ঠ নয়। একটি ক্ষুদ্র অংশের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। তাহলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ রকম গবেষণায় কেন অংশ নিলো? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই গবেষণার বিষয়ে অধিদপ্তর অবগত নয়।

স্বাস্থ্য সেবা সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, এই গবেষণা কীভাবে হয়েছে, আমি তার ব্যাখা চেয়েছি। এই গবেষণা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় অবগত নয়। গবেষণা তথ্য প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভপতিত্ব করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই গবেষণা ঢাকা শহরকে প্রতিনিধিত্ব করেনা। মাত্র ৬৯২ জনের রক্ত পরীক্ষা করে এই গবেষণা করা হয়েছে। এত কম সংখ্যক স্যাম্পল দিয়ে এটা প্রমাণ করা যায় না, ঢাকা শহরে ৪৫ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রা’ন্ত হয়েছিল। তাছাড়া এন্টিবডি হলেই যে তিনি আক্রা’ন্ত হয়েছেন, এমন বলাটা বিজ্ঞানভিত্তিক নয়।

অধ্যাপক ডা. ফ্লোরা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে করোনা হয়েছে, এটা প্রোগাম ম্যাপিং এর একটি ধারণা মাত্র। কিন্তু এখন এসব কথা বলা হলেও এই গবেষণার তথ্য প্রকাশের আগে কেন এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হলো না। আইইডিসিআর কেন গবেষণা রিপোর্টটি আগে মূল্যায়ন করলো না? গবেষণা রিপোর্টে কী আছে না জেনেই কীভাবে মন্ত্রী অনলাইনে যুক্ত হলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর নেই। করোনার শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজেরাই নিত্য নতুন তথ্য বি’ভ্রাট এবং বিভ্রা’ন্তি তৈরী করে সরকারকে বিব্রত করছে। এটি তারই একটি ধারাবাহিকতা মাত্র। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 31
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply