কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

0

সময় এখন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধ* প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা রোধ করার ব্যাপক ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। আর সব থেকে বড় কথা মানুষের মাঝেও জনসচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ৭০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী এবং সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকালে গণভবন থেকে সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মূল অনুষ্ঠান স্থলসহ দেশের ৭টি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সমসাময়িক সময়ে সামাজিক এই ব্যাধির প্র’কোপ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইদানিং এটা ব্যাপকভাবে হচ্ছে এবং প্রচারও হচ্ছে। এটার যত বেশি প্রচার হয় প্রা’দুর্ভাবটাও তত বাড়ে।

সরকার ধ* এর সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বিধান সংযুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আজকের যারা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলেন, আপনারাই থাকবেন আগামী দিনের কর্ণধার। আপনারাই দেশটাকে পরিচালনা করে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আজকের যারা নতুন প্রজন্ম তারাই ২০৪১ এর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়েই আমাদের কর্মচারীরা দেশ এবং জনগণের সেবা করবে, সেটাই আমার লক্ষ্য। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।

৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলু হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই কোন ধরনের অ’ন্যায়-অ’বিচার যেন না হয়। মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়। মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কারণ, আমি জানি, বিচার না পেলে কী ক’ষ্ট হয়। আমার বাবা-মা, ভাই, ভাতৃবধূ- তাদের যখন হ’ত্যা করা হয়, খু’নিদেরকে ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিলো। আমার বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিলো না। শুধু আমি কেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট যারা নিহ’ত হয়েছিলেন তাদের পরিবারের কারোরই বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিলো না।

তিনি বাষ্পরু’দ্ধ কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা-মা, ভাই মা’রা গেছে আমি একটা মামলাও করতে পারিনি। আমার সেই অধিকারটাও ছিলো না। এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে যেন আর না থাকে। তার সরকার ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলো বলেই জাতির পিতার খু’নি এবং দেশের যু’দ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। বিপিএটিসি’র রেক্টর মো. রাকিব হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৭০তম বুনিয়াদি কোর্সের ফলাফল হস্তান্তর করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে সনদ বিতরণ করেন।

এবারের ৬ মাস ব্যাপী কোর্সটির শেষ ১ মাস করোনার কারণে অনলাইনে সমাপ্ত করা হয়। যেখানে ১৬১ জন নারীসহ ৬৬৩ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৫০ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী সেন্টার অব এক্সিলেন্স সনদ প্রাপ্ত হন। অনুষ্ঠানে সনদ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষে মেহেদী হাসান কাওসার এবং মুনিয়া সিরাত নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই যু’দ্ধ বিধ্ব’স্ত দেশ পুণর্গঠনের সময় সংস্কারের মাধ্যমে স্বাধীন দেশের উপযোগী সিভিল সার্ভিস গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া জাতির পিতার একটি ভাষণেরও উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন- ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনা দেয় ওই গরীব কৃষক, আপনার মাইনা দেয় ওই গরীব শ্রমিক, আপনার সংসার চলে ওই টাকায়, আমি গাড়ি চড়ি ওই টাকায়, ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন, ওরাই মালিক।’

প্রধানমন্ত্রী এই উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, আজকে যারা নবীন কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাদের কিন্তু ওই কথাটাই মনে রাখতে হবে, এই দেশের গরিব মানুষ যারা বা এখনো তৃণমূলে যারা পড়ে রয়েছেন তারাই এদেশের মালিক। আর তাদের ঘর থেকেই লেখাপড়া শিখে আজকে উঠে এসেছেন। কাজেই, সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাদের সেবা করাটাই হবে সব থেকে বড় দায়িত্ব।

তিনি জাতির পিতার সিভিল সার্ভিস কমিশন সংস্কার নিয়ে আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রফেসর মোজাফফর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস রি-অর্গানাইজেশন কমিটি’ ও গঠন করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জাতির পিতা তার দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচির অংশ হিসেবে সব মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করে প্রত্যেক জেলার জন্য ‘জেলা গভর্নর’ নিযুক্ত করেন। কারণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণই ছিলো জাতির পিতার মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না, কোন শিশুই পথশিশু থাকবে না, প্রত্যেক শিশুরই একটা ঠিকানা হবে এবং লেখাপড়া এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান করে জীবনে যেন দাঁড়াতে পারে তার ব্যবস্থা আমাদের করে যেতে হবে।

তিনি এ সময় সীমিত ভূখণ্ড এবং বিশাল জনসংখ্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেজন্যই তার সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেকটি গ্রামকে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে শহরে রূপান্তরিত করা।

সারা বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত করে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ডিজিটাল পোস্ট অফিস নির্মাণ করে দেশকে ডিজিটালাইজড করে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা জনগণের দোড়গোঁড়ায় নিয়ে আসায় তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মানুষের নাগালের মধ্যে কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনকে নিয়ে আসার জন্য এসব পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্র’ত্যাহার এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেয়ারও তথ্য দেন তিনি।

তিনি বলেন, সেই চর কুকরি মুকরি থেকে শুরু করে সারাদেশ যেন ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আসতে পারে সে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। কাজেই, দেশ ডিজিটাল হয়েছে বলে যেখানে করোনা ভাইরাসের কারণে ঘর থেকেই বের হতে পারছি না সেখানে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কথা বলতে পারছি।

তিনি বলেন, করোনা দেখা দেয়ার পর পরই আমি একটা নির্দেশ দিয়েছিলাম-আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতেই হবে। যে কারণে দেশে কোনো খাদ্য সং’কট হয়নি। অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে সে ব্যবস্থা যেমন আমাদের করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে দেশটা যেন এগিয়ে যেতে পারে সেটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

ভূমি সংস্কার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার ক্ষেত্রে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নামের ব-দ্বীপটাকে রক্ষা করার জন্য প্রত্যেকটি জলাধার সুরক্ষা করে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর ওপরেও গুরুত্ব আরোপ করেন।

তার সরকার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার নির্দেশনায় বিপিএটিসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভৌত অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিপিএটিসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ-শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তারই ধারাবহিকতায় ২০তলা বিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন’ এর নকশা এরইমধ্যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাচ্ছি, আমাদের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটা একদিকে যেমন দৃষ্টিনন্দন হয় এবং সেখানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাটাও যেন বিশ্বমানের হয়। এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা সমগ্র বিশ্বে যেন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। আমি চাই এই কাজটা যেন একটু দ্রুত শেষ হয়।

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশপাশি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি কাঠামো তৈরিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১০ থেকে ২০২০ এখন আবার ২০২০ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করছি। এমনকি শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনাও আমরা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তিকে’ ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলবেন, যেন আর কোনদিন পিছিয়ে না যায়।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই একটা দিক দর্শন থাকতে হয়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হয়। লক্ষ্যবিহীন জাতি যেমন এগোতে পারে না, তেমনি দিকহারা জাতিও কোনো ঠিকানা খুঁজে পায় না। কাজেই, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সব পরিকল্পনা দিয়ে গেলাম। যাকে আপনারাই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

করোনার সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও সবাইকে স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজে সুরক্ষিত থাকবেন এবং অপরকেও সুরক্ষিত রাখবেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!