নিক্সনকে নিয়ে আওয়ামী লীগে বিভক্তি!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে এই মুহুর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফরিদপুরের এমপি নিক্সন চৌধুরী। ধ* ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় ফরিদপুরে প্রশাসন বনাম জনপ্রতিনিধির দ্বৈরথ! ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন নিক্সন চৌধুরীর বিরু’দ্ধে নির্বাচন আইন ল’ঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছে। পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সভা করে, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিচার দাবী করেছে।

নিক্সন চৌধুরী অফিসিয়ালি আওয়ামী লীগের কেউ নন। স্বতন্ত্র নির্বাচন করে, ২০১৮’র ৩০ ডিসেম্বর তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহকে পরাজিত করেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ না করলেও নিক্সন চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ অ’স্বীকারও করতে পারেন না। নিক্সন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়। জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ তার আপন ভাই। ফরিদপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মূল চালিকা শক্তি তিনি। তাই আওয়ামী লীগ না হয়েও নিক্সন চৌধুরী আওয়ামী লীগার। তাই নিক্সন কে নিয়ে আওয়ামী লীগের মাথাব্যথা থাকতেই হবে। দুটো কারণে আওয়ামী লীগ তার বিষয়টি উ’পেক্ষা করতে পারে না।

প্রথমত: আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। তাই একজন এমপির সঙ্গে একজন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তার বিরো’ধ এবং তা নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের আলটিমেটাম, ক্ষমতাসীন দলের জন্য অবশ্যই ভাবনার বিষয়।

দ্বিতীয়ত, নিক্সন চৌধুরী আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আর এ কারণেই নিক্সন চৌধুরীকে নিয়ে চলমান ঘটনা প্রবাহে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী, আওয়ামী লীগের নেতারা কী ভাবছেন, তা জানার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বিষয়টিকে সেনসিটিভ বলে আওয়ামী লীগের কোন নেতাই এ সম্পর্কে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজী হননি। কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে, আওয়ামী লীগের নেতারা, নিক্সন ইস্যুতে পরস্পর বিরো’ধী মন্তব্য করেছেন।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, নিক্সন জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এই বাড়াবাড়ির ফলে মাঠ প্রশাসনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্যই তার সাজা হওয়া দরকার। এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ন’ষ্ট হয়েছে।

তবে দলের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ঘটনার পর জেলা প্রশাসক এবং ইউএনও যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে ডাল মে কুছ কালা হায়। বিষয়টি নির্বাচন সংক্রান্ত। নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে মামলাও করেছে। কিন্তু একে আমলারা একটি ইস্যু বানাচ্ছেন। এটাও তো ঠিক নয়। নিক্সন ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে আমলারা বিরাজনীতিকরন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন করছেন কি না সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে করেন, ঘটনা নিয়ে দুপক্ষই বাড়াবাড়ি করছে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!