গরিব-দুঃখীদের সেবক থেকে এমপি, আম গাছতলায় তার অফিস

0

সময় এখন ডেস্ক:

চার দেয়ালের মাঝে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আরাম কেদারায় শরীর এলিয়ে দিয়ে নিজের রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি তিনি। দাপিয়ে বেড়ান মাঠে, রাস্তায়। আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সম্মুখের আম গাছতলায় বসেই মানুষকে সেবা দিয়ে এমপি হয়েছেন ইকবাল হোসেন অপু। আর এই আম গাছতলায় তার অফিস।

একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপু। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ যে কোনো বিষয় নিয়ে যখন-তখন তাকে কল দিয়ে জানায়। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেন তিনি। এজন্য আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন এমপি ইকবাল।

সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনের আমতলায় সারাদিন বসেন থাকেন তিনি। নেতা-কর্মীরাও সারাদিনই তাকে ঘিরে বসে থাকে এখানে। অনেকেই বলেন, অপু ভাইয়ের আমতলা।

বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ধারণ করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলা ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের আস্থা ভালোবাসা অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপুর সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় প্রতিবেদকের।

ইকবাল হোসেন অপু বলেন, সাধারণ মানুষ কোনো দ্বিধা ছাড়াই যাতে আমার কাছে আসতে পারে- এজন্য চার দেয়ালের এসি রুমে অফিস করিনি। খোলা আকাশের নিচেই আমার অফিস। এলাকার সবাই আমার প্রিয়, তারা এলে আমার ভালো লাগে।

নির্দিষ্ট সময় ছাড়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে লোক-সমাগম তেমন থাকে না। কিন্তু নেতা-কর্মীরা জানেন, সকাল-সন্ধ্যা পার্টি অফিসের সামনের আমতলায় কেউ না থাকলেও ইকবাল হোসেন অপুকে ঠিকই পাওয়া যাবে।

আওয়ামী লীগের ২০ ও ২১তম জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সদস্য নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন অপু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর অনেকেই ধারণা করেছিলেন- এবার বুঝি ইকবাল হোসেন অপু নিজের কাজে বাইরে থাকবে। কিন্তু না; ঢাকায় থাকলেও নিয়মিতই পার্টির নেতা-কর্মীদের আমতলায় সময় দেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ও নির্বাচনী এলাকার কাজকর্মের কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করেন এই আমতলায় বসে। সবসময় মানুষের কাতারেই থাকতে চান স্বচ্ছ ইমেজের এই সাংসদ।

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হোসেন অপু বলেন, এমপি হলে মানুষ পাল্টে যায়- এটা ভুল। এমপি হলে মানুষকে ঘিরে কাজ আরো বেড়ে যায়। তাই খুব সাধারণ জায়গায়, সাধারণভাবে থাকলে মানুষ এমপির কাছে আসতে পারে। আর আমি এটাই চাই, কোনো মানুষ যেন আমার কাছ থেকে দূরে সরে না থাকে। তাদের সেবা দেয়া আমার দায়িত্ব এবং এটা আমার ভালো লাগে।

তিনি আরো বলেন, আমতলায় সবাইকে নিয়ে ভালো আছি। আমি মনে করি আন্তরিকতা থাকলে সব জায়গায় বসে কাজ করা যায়। জনগণের জন্য সেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম, এখনো আছি। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন মানুষ হয়ে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের সেবক হিসেবে থাকতে চাই।

সাদাসিধে এই নেতা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হলে সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। মানুষ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থাশীল হলে সমাজে সন্ত্রা’স, নৈতিক অব’ক্ষয়, দুর্নীতি, অপরাধ ও সামাজিক অ’সঙ্গতি দূর করা সম্ভব। আর এভাবেই বঙ্গবন্ধুর আর্দশ সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা উল্লেখ করে অপু বলেন, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ জনগণের কল্যাণে, রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করে মানুষের কতটা কাছাকাছি যাওয়া যায় তার প্রমাণ মেলে বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করলে। আমি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ বাস্তবায়নে অবিচল।

তিনি মনে করেন, মানুষ যত ভালো আর উত্তম কাজ করে- ততই তার সৎ আর দৃঢ় মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটে। আর তিনি যদি হন একজন রাজনীতিবিদ, তাহলে তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের হাজারো স্বপ্ন তৈরি হয়। আস্থা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ডেইলি বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন !
  • 119
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!