চট্টগ্রামে ই’য়াবা দিয়ে পুলিশকে ট্র্যাপ করতে গিয়ে নিজেই ধরা!

0

সময় এখন ডেস্ক:

চট্টগ্রামের লালখান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাবলা দাশ। শুরুর দিকে ব্যবসা ভালোই চলছিল তার। হঠাৎ করেই ব্যবসা থেকে মনোযোগ সরে আসায় লস হতে থাকে। ব্যবসার জন্য বেশ কিছু দেনা হয়ে যায় তার। কিন্তু তাতেও লস পুষিয়ে উঠতে পারেননি তিনি, বরং দেনার বোঝা বাড়তে থাকে।

আড়তদাররাও সিদ্ধান্ত নেয়, নগদ টাকা ছাড়া বাবলা দাশকে কেউই মাছ দেবে না। এ সিদ্ধান্তের পর অভিনব এক নাটক সাজান বাবলা দাশ। তার সাজানো গল্পেই ফেঁ’সে যেতে বসে চট্টগ্রামের সবচেয়ে জনবান্ধব থানা হিসেবে পরিচিত কোতোয়ালি থানা ও পুলিশ সদস্যরা!

দেনার চাপে পড়ে বাবলা দাশ পুলিশ কর্তৃক টাকা ছি’নিয়ে নেয়া ও ই’য়াবা দিয়ে ফাঁ’সানোর গল্প সাজায়। পরে তদন্ত শুরু হলে দেখা যায়, বাবলা দাশের বক্তব্য মোটেই সত্য নয়। ভুয়া গল্প সাজিয়ে পুলিশকে ট্র্যাপ করতে নিজেই আড়তদারের টাকা লোপাটের বিষয়টি পুলিশের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিলেন। কোতোয়ালি থানার স্বনামধন্য পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মহসিন এ গল্প তার ফেসবুকে শেয়ার করেন-

পুলিশ যেভাবে ই’য়াবা দিয়ে ফাঁ’সায়!

মাছ বেচে ফিসারিঘাট যাচ্ছিল বাবলা। পথেই তার গতিরোধ করে পুলিশ। তল্লাশি চালায় এবং একপর্যায়ে গাড়িতে তোলে। গাড়িতে তুলে কিছুক্ষণ ঘোরানোর পর নির্জন এক জায়গায় তাকে নামায়। এরপর তার পকেটে ই’য়াবা গুঁজে দিয়ে বলে ই’য়াবা ব্যবসায়ী! ই’য়াবাসহ তার কিছু ছবিও তুলে রাখে সেই পুলিশ সদস্যরা! এরপর বাবলার কাছে থাকা ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা তারা নিয়ে হুম’কি দেন, এই টাকার বিষয়ে কাউকে বললে এসব ছবি দিয়ে মামলা দিয়ে দেবে! টাকা ‘হারিয়ে’ বাসায় চলে আসে বাবলা।

পুলিশ যেভাবে ট্র্যাপে পড়ে!

বাবলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানায় তার আড়তদার। কারণ, লোপাটকৃত টাকাগুলো নিয়ে বাবলা আড়তদারের পাওনা পেমেন্টের জন্যই যাচ্ছিল। অভিযোগ গুরুতর। পাশাপাশি পুলিশবিরো’ধী সেন্টিমেন্টের ‘পিক আওয়ার’ চলছে। তাই সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু করি।

যদিও শতভাগ বিশ্বাস ছিল, ‘টিম কোতোয়ালি’ এটা কখনোই করবে না। কিন্তু বাবলার আত্মবিশ্বাস ছিল আমার বিশ্বাসের চেয়েও বেশি! তাই কিছুটা কনফিউজড ছিলাম। সিনিয়র স্যারদের লাগাতার জেরায় বাবলা তার কথায় অনড় থাকে। তাকে সিসিটিভি ফুটেজের কথা বললে সে বলে, ‘স্যার, সেটা দেখলেই প্রমাণ পাবেন আমার অভিযোগের!’

উপায়ন্তর না দেখে তাৎক্ষণিকভাবেই তার সামনেই আনা হয় সিসিটিভি ফুটেজ। প্রতি মোড়ের প্রতিটাক্ষণ যাচাই করা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী তাকে যেখান থেকে পুলিশ গাড়িতে ‘তুলে’ সেখানে তাকে দেখা গেল না! যেখানে তাকে ‘ঘোরানোর’ অভিযোগ করেছিল সেখানে আমাদের গাড়ি যায়নি! আবার যেখানে তাকে ‘নামিয়ে’ দেয়ার কথা বললো, সেখানেও তার অস্তিত্ব নেই!

এসব দেখার পরই শুরু হয় তার অ’সংলগ্ন কথাবার্তা। এরপর আবারো তাকে জেরা শুরু হয়। একপর্যায়ে সে স্বীকার করে তার সব অভিযোগই মিথ্যা! মূলত আইপিএল-এ বাজি ধরে সে সব টাকা খুইয়েছে। টাকা না দিলে মাছ পাবে না- তাই ‘পুলিশ টাকা নিয়ে নিয়েছে’ বলে উদ্ধার পেতে চেয়েছিল বাবলা। তার দাবি, এই অভিযোগ সবাই বিশ্বাস করবে। তাই এমন অভিযোগই সে করেছে।

এই সত্য উদ্‌ঘাটনের পর যখন ঘুমাতে যাব, তখন ভাবছি, যদি এই সত্য বের না হতো তাহলে কী হতো? ‘ই’য়াবা দিয়ে ফাঁ’সানোর ভ’য় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর টাকা লোপাট’ সংবাদের শিরোনাম হতাম আমরা। আমার অফিসার ক্লোজড হতেন। আমিও…।

আল্লাহ সহায় ছিলেন। তাই বেঁচে গেলাম। চোরের দশদিনের পর আজ আসলে আমাদের গেরস্থেরই দিন ছিল। নিজের জালে নিজেই ফেঁ’সে গেল বাবলা।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!