ভুয়া মাস্ক সাপ্লায়ার জামায়াত নেতা আ. রাজ্জাকের জামিন

0

সময় এখন ডেস্ক:

ভুয়া ‘এন-৯৫’ মাস্ক সরবরাহ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আবদুর রাজ্জাক।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তাকে জামিন দেন।

এদিন জামায়াত নেতা রাজ্জাকের পক্ষে শেখ বাহারুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জামিনের বিরো’ধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৮ অক্টোবর ৫ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে জেলে পাঠানো হয়।

ভুয়া ‘এন-৯৫’ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) ৬ কর্মকর্তা ও জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বিরু’দ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. নূরুল হুদা বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের উপ-পরিচালক ডা. জাকির হোসেন, সহকারী পরিচালক (স্টোরেজ অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) ডা. শাহজাহান সরকার, চিফ কো-অর্ডিনেটর ও ডেস্ক অফিসার জিয়াউল হক, ডেস্ক অফিসার (বর্তমানে মেডিক্যাল অফিসার, জামালপুর) সাব্বির আহমেদ, স্টোর অফিসার (পিআরএল ভোগরত) কবির আহমেদ, সিনিয়র স্টোর কিপার ইউসুফ ফকির।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি টিম জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত অথবা সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য ডাক্তার, নার্স এবং অন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষায় এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের জন্য জেএমআই গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেএমআই গ্রুপ এন-৯৫ মাস্কের নামে ২০ হাজার ৬১০টি মাস্ক সরবরাহ করে। যার প্যাকেটেও মুদ্রিত ছিল ‘এন-৯৫’। অথচ খুলে দেখা যায় ওই মাস্কগুলো প্রকৃতপক্ষে এন-৯৫ মাস্ক নয়। সেগুলো ১০টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়।

গত ১০ জুন থেকে দুদক কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট ও অ’বৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরু’দ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।

উল্লেখ্য, করোনার শুরুতেই চিকিৎসকদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তড়িঘড়ি করে জেএমআইকে টেন্ডার না করেই সরাসরি মাস্ক সরবরাহের দায়িত্ব দেয়। কেন টেন্ডার ছাড়াই এ দায়িত্ব দেওয়া হলো সেটি রহস্যময় বটে।

এন-৯৫ মাস্ক বাংলাদেশে তৈরী হয় না। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরী হয়। জেএমআই কোনো এলসি বা আমদানী না করেই তারা তাদের গাজীপুরের ফ্যাক্টরিতে নকল মাস্ক উৎপাদন করেছে বলে তদন্তে জানা গেছে। সেই নকল মাস্কগুলো এন-৯৫ মুদ্রিত প্যাকেটে ভরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে সরবারহ করে।

এর মধ্যে মুগদা হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই মাস্ক যে আসল মাস্ক না- তা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেএমআই এর আপস রফায় ঐ মাস্কগুলো প্র’ত্যাহার করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তখন সাফাই গায় জেএমআই-এর পক্ষে। জানায়- ভুলক্রমে এসব মাস্ক এন-৯৫ এর প্যাকেটে ভরে দেয়া হয়েছিল! মুগদা হাসপাতালের মহাপরিচালককে বদিল করা হয় একই সময়, যিনি নকল মাস্ক নিয়ে কথা বলেছিলেন।

শেয়ার করুন !
  • 84
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply