আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কেয়া চৌধুরী ও রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল

0

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা:

হবিগঞ্জ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী- আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া ও হবিগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। রোববার (২ ডিসেম্বর) মনোননপত্র বাছাই শুরু হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামি ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে।

রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে ঋণখেলাপের অভিযোগ। এই অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয় বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল কবীর মুরাদ। তিনি বলেন, রেজা কিবরিয়া সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ পরিশোধ করেননি। তবে ঋণের পরিমাণ কত তা বলেননি।

রাজধানীর মতিঝিলে গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ১৮ নভেম্বর দলের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন রেজা কিবরিয়া।

কেয়া চৌধুরী হলফনামায় সাক্ষর না করায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে কেয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন হবিগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী।

কেয়া চৌধুরীর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, তিনি হলফনামার তৃতীয় অংশ পূরণ করেননি। পাশাপাশি হলফনামায় অন্যের সাক্ষর রয়েছে। তিনি নিজে সই করেননি।

এছাড়াও সহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

অন্য যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা হলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হান্নান আর ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ বদরুল রেজা। আবদুল হান্নানের পক্ষে ভোটার সম্মতিপত্রে গড়মিল ছিল। আর বদরুল রেজা হলফনামায় সাক্ষর করেননি।

এদিকে হবিগঞ্জ ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনিও হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি।

ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল

কুড়িগ্রাম-৪ আসন (রাজিবপুর, রৌমারী ও চিলমারী উপজেলা) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের অংশ নিতে ইচ্ছুক গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (২ ডিসেম্বর) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,নির্বাচনে প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনের মোট ভোটারের ন্যূনতম ১% ভোটারের সমর্থন থাকতে হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইমরান এইচ সরকারের এ সম্পর্কিত তথ্যে ঘাটতি রয়েছে। তাই তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়ে।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘এটা একটা অমূলক অজুহাত। আসলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করতেই আমিসহ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তালিকায় দেওয়া আমাদের সমর্থক ভোটারদের সংখ্যায় কোনও ঘাটতি নেই। হয়তো ক্রমিক সংখ্যায় ভুল থাকতে পারে যা সংশোধনযোগ্য।

তিনি বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবো।’

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!