বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্থানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে বাংলাদেশ

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

দেশকে ক্ষুধামুক্ত করতে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ দারুণ সাফল্য এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে। গত এক বছরে ক্ষুধা ও অ’পুষ্টি দূরীকরণে হয়েছে বড় ধরনের অগ্রগতি। এমনকি প্রতিবেশী ভারতকেও টেক্কা দিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রকাশিত বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১৩ ধাপ এগিয়ে যাওয়া যেন সেই প্রমাণ দিচ্ছে।

তালিকার ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৭৫তম। গত বছর ছিল ৮৮তম অবস্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্থান ৮৮তম, ভারত ৯৪তম এবং আফগানিস্তান ৯৯তম অবস্থানে রয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কা ৬৪তম এবং নেপাল ৭৩তম হয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের থেকে।

এই সূচকে প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয় ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে। যেসব দেশের স্কোর শুন্য সেসব দেশ সূচকের শীর্ষে থাকে। তাই স্কোর বাড়া মানে কোন দেশের ক্ষুধা পরিস্থিতির খারাপ অবস্থার প্রমাণ দেয়। আর কমা মানে সেই দেশ ক্ষুধা ও অ’পুষ্টিমুক্ত হচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিলো ২৫.৮ পয়েন্ট। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০.৪ পয়েন্টে।

ক্ষুধার সংজ্ঞা নির্ধারণে ৪টি মাপকাঠি বিচার করে আন্তর্জাতিক ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট। এগুলো হলো– অ’পুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশু হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশু হার এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর ডেথরেট।

ক্ষুধা সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ অ’পুষ্টিতে ভুগছে। ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ৯.৮ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম। আর এই বয়সী ২৮ শতাংশ শিশুর উচ্চতা বয়স অনুপাতে কম। এছাড়া ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর ডেথরেট ৩ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট বলছে, ক্ষুধা দূর করার ল’ড়াইয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো গত এক বছরে বেশ উন্নতি করলেও এখনো এ অঞ্চলের ৭ দেশই রয়েছে সূচকের সেই ৪০ দেশের কাতারে, যেখানে ক্ষুধা এখনো একটি গুরুতর সমস্যা।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ৬৯ কোটি মানুষ অ’পুষ্টিতে ভুগছে। এবং বিশ্বের ১১টি দেশে ক্ষুধার মাত্রা উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌছেছে। যে তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে সেখানে করোনা ভাইরাসের প্রভাব উল্লেখ করা হয়নি।

শেয়ার করুন !
  • 156
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply