বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: কী ঘটছে ভেতরে ভেতরে?

1

বিশেষ প্রতিবেদন:

প্রকাশ্যে বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে নিকটতম বন্ধু। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বাংলাদেশ সবার আগে। এ ধরনের কথাবার্তা বলা হলেও বাস্তবে তার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। বরং ভারত বিভিন্ন সময় একের পর এক যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশের বিপক্ষেই যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকা ঘুরে গেছেন এই অ’স্বস্তি দূর করার জন্য। এসেছেন নতুন রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বমী। তিনি এসেই সেই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলেছেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন, দেখা সাক্ষাৎ করছেন এবং নতুন নতুন সুখবরের আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবেই কোন কিছুই দৃশ্যমান নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশ যখন ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে দেনদরবার করছে, সে সময় ভারত বাংলাদেশের পাশে না থেকে বরং মিয়ানমারকে সহায়তা দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে দেখা যাচ্ছে, মিয়ানমারকে ভারত নজিরবিহীন সহয়তা দিচ্ছে। মিয়ানমারের নৌবাহিনীকে একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন দেবে ভারত। এটি হবে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর প্রথম সাবমেরিন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব একথা নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়ে গেল, ভারত মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী। মিয়ানমারে চলমান সংঘা’তের বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার যে গড়িমসি করছে, ভারতও তাতে অংশীদার।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত এমনটি করছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কূটনৈতিক মহল বেশ কিছু কারণ দেখতে পেয়েছেন।

প্রথমত, বাংলাদেশের উন্নয়ন; যেদিন মিয়ানমারকে সাবমেরিন দেয়ার ঘোষণা দিলো ভারত, সেদিনই আইএমএফ এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এবার গড় মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সফল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এ উন্নতিতে ভারতের মুখের কথা এবং মনের কথা যে এক নয় তা প্রতিনিয়ত প্রমাণিত হয়। শুধু এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ করোনাকালে নাস্তানাবুদ হয়নি বরং নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের যে দেশগুলো অর্থনীতিকে রক্ষা করতে পেরেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এজন্য কি করোনায় অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খাওয়া ভারতের একটু জ্বলছে? ভারত সরকার বাংলাদেশের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ আগে থেকে প্রস্তুতি থাকার কারণে এই ধাক্কা সামলে নিয়েছে। ভারতের পেঁয়াজ না এলেও বাংলাদেশে পেঁয়াজের যে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি গত বছর হয়েছিল, তেমনটা হয়নি। এজন্যও কি ভারতের ক’ষ্ট? দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তগুলোতে এখনো সীমান্ত হ’ত্যা বন্ধ হয়নি। যদিও ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী বাংলাদেশে এসে বলেছেন, একটি হ’ত্যাও তিনি চান না।

কিন্তু বাস্তবিক কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়টি মীমাংসিত হচ্ছে না এজন্য, বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। ভারত কি বাংলাদেশকে ঈ’র্ষা করছে এবং বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে না পারে সে জন্য যত ধরণের বাধা তৈরি করা সম্ভব, তা তৈরি করছে? যার একটি হলো মিয়ানমারকে সাবমেরিন সরবরাহ করা।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভারতকেই দিতে হবে। ভারত বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী। কিন্তু বাংলাদেশ যখন দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্ত রাষ্ট্র ছিল, তখন ভারতের মনোভাব আর বিশ্বের এক বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত বাংলাদেশের প্রতি ভারতের মনোভাবের পার্থক্য জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের উন্নতি অগ্রযাত্রায় ভারত হয়তো সন্তুষ্ট নয়। ভারতের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না বাংলাদেশ, সেই সাথে চীনের মত সুপার পাওয়ারের বন্ধুত্ব- ভারতের অ’স্বস্তির অনেক কারণ রয়েছে বৈকি।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত সবসময় চায় প্রতিবেশী দেশগুলো সবসময় দরিদ্র থাকুক, অভাব-অনটনে থাকুক। সেটি বাংলাদেশে হচ্ছে না দেখেই ভারত চিন্তিত? আর সে জন্যই ভারত বাংলাদেশকে চাপে রাখতে সচেষ্ট হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তরটা খোঁজাটা দু`দেশের সুসম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরী। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 139
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

১ Comment

  1. সংবাদে যা বলা প্রয়োজন তা বলতে না পারার কারণ কী? এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা। কুঁড়েঘরের বেড়া না লাগলেও দালানকোঠার দেয়াল দরকার হয়, শক্ত পাহারা লাগে, লাঠি বন্ধুক সবই লাগে। বাংলাদেশের বার্ষিক সামরিক ব্যয় এখন তিনগুন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আধুনিক সমরাস্ত্রে বাংলাদেশকে উন্নত করার দিন অনেক আগেই এসে গেছে।

Leave A Reply