অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভাসানচরে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের দাবি

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

জাতিসংঘ নির্ধারিত আকারের চাইতেও বড় মাথা গোঁজার ঠাঁই। সৌরবিদ্যুৎ জোগাবে আলো আর পানি। রান্নায় সাশ্রয়ী আর পরিবেশবান্ধব চুলা। শিশুদের জন্য স্কুল, খেলার মাঠ। কক্সবাজারের ক্যাম্পের তুলনায় এমন অন্তত ১৬টির বেশি সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত ১ লাখের জন্য অপেক্ষা করছে ভাসানচর।

অথচ প্রতিনিধি পাঠানোর পরেও এমন একটি জায়গায় রোহিঙ্গারা যেতে রাজি নয়। কারণ, কক্সবাজারে থাকলে তারা চাষাবাদ না করেও শুধুমাত্র ই’য়াবা ব্যবসা করে বা বিভিন্ন অ’নৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে পারছে। যার মধ্যে চাঁদাবাজি, অপ’হ’রণ, হাইজ্যাকিং, দে’হ ব্যবসাসহ নানাবিধ অপ’কর্ম রয়েছে। অথচ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেয়া ৫০টি মানদণ্ডের চাইতেও অধিক (৫৭টি) অনুসরণ করে এই প্রকল্পটি দাঁড় করিয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য।

এ মুহূর্তে দেশের সর্বস্তরে দাবি উঠেছে, রোহিঙ্গারা সেখানে না গেলে দেশের বিভিন্ন জায়গার নদী ভাঙন কবলিত, গৃহহীন, কর্মহীন জনগোষ্ঠীকে যেন সেখানে পুনর্বাসন করা হয়। তাতে তারা ঘর পাবে, চাষাবাদ করার সুযোগ পাবে।

১৪ থেকে ১৫ হাজার শ্রমিকের ২ বছরের পরিশ্রমের ফসল নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর। যার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে একই জেলার রামগতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত গুচ্ছগ্রাম ধারণা। পিতার দেখানো পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তুহারা মিয়ানমারের নাগরিকদের অ’স্থায়ী আবাসন গড়তে যোগ করেছেন পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন মডেল।

ভাসানচর আশ্রয়ন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার ও ভাসানচরের তুলনা করতে গিয়ে দেড় ডজন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। এখন রোহিঙ্গারা থাকছে তাঁবুতে বা বাঁশের তৈরি কাঁচা ঘরে। আর ভাসানচরে প্রস্তুত ১২০টি ক্লাস্টার বা গুচ্ছগ্রাম। যার প্রতিটিতে থাকছে ১২টি করে বাড়ি। প্রতিটিতে ১৬টি করে কক্ষ। প্রতিটি কক্ষ বরাদ্দ পাবে ৪ সদস্যের একটি পরিবার। সাবমার্সিবল পাম্প, ১৩০টি পুকুর ও ২টি লেক থাকায় পানি হাতের নাগালেই। ডিজেল জেনারেটর আর সৌরবিদ্যুতে সবসময় মিলবে আলো। কক্সবাজারে এমন কোন অবকাঠামো নেই।

কক্সবাজারে রান্নার জন্য বনজ জ্বালানি বা গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে হয়। ভাসানচরে থাকছে ইকোচুলা আর বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। এ ছাড়া শিশুদের জন্য থাকছে ২টি স্কুল ও একটি এতিমখানা। আরও থাকছে, ৩টি মসজিদ, ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ২টি ২০ শয্যার হাসপাতাল। সব মিলিয়ে ভাসানচরকে একটি আদর্শ আশ্রয়স্থল মনে করেন প্রকল্প পরিচালক কমোডর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।

কক্সবাজারে যেখানে ২০ জনের জন্য একটি টয়লেট ও ৮০ জনের জন্য একটি বাথরুম, সেখানে ভাসানচরে ১১ জনের জন্য একটি টয়লেট এবং ১৬ জনের জন্য একটি বাথরুমের ব্যবস্থা রয়েছে। সে সঙ্গে ১ লাখ লোকের ৩ মাসের খাবার মজুত রয়েছে ২টি গুদামে, যা কক্সবাজারে নেই। আরও রয়েছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য এখানে রয়েছে ৪২ কিলোমিটার রাস্তা।

এমন উন্নত আবাসন সুবিধা থাকাসত্ত্বেও রোহিঙ্গারা যেহেতু আগ্রহী নয়, তাই ফেলে না রেখে নিজ দেশি প্রকৃত দরিদ্র ও দুস্থ জনগোষ্ঠীকেই সেখানে পুনর্বাসন করা হোক। এটাই সবার দাবি।

লেখক: ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী
পরিচিতি: শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী
পেকুয়া, কক্সবাজার

শেয়ার করুন !
  • 166
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply