এত জায়গা থাকতে রূপপুরে কেন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে?

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

প্রায় সবারই একটা কমন প্রশ্ন, বাংলাদেশে এত জায়গা থাকতে পাবনার রূপপুরে কেন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে? দেখা নেয়ে যাক, কী কী কারণে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছেঃ

১. বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের আগেই ১৯৬১ সালে পাকিস্থান সরকার পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে চেয়েছিল। তখন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর এবং আবাসিক এলাকার জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। যদিও কয়েক বছর পর পাকিস্থান সরকার রূপপুরের পরিবর্তে করাচীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর সেই বৈ’ষম্যের কথা মাথায় রেখেই ঘোষণা দিয়েছিলেন রূপপুরেই ২০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। আর যেহেতু রূপপুরে সকল ধরণের সার্ভে আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিলো, তাই নতুন করে অনুসন্ধান এবং পর্যালোচনা করে বিকল্প খোঁজার পেছনে অর্থ এবং সময় ব্যয় না করে রূপপুরকেই বেছে নেয় শেখ হাসিনা সরকার।

২. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে, যা দিয়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষের বার্ষিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। সাধারণত আমাদের পুর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈ’ষম্য দেখা যায়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই বৈ’ষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৩. পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলে প্রচুর কলকারখানা গড়ে উঠবে। যার ফলে পশ্চিমাঞ্চলের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এতে দুই অঞ্চলের মধ্যকার আর্থসামাজিক ব্যবধান কমে আসবে। ফলস্বরুপ জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে।

৪. পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অবারিত পানির সংকুলান জরুরী। একইসাথে ভারী যন্ত্রপাতি আনা নেয়ার ক্ষেত্রে নদী একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে; আবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে পদ্মা নদীর পানি ২৪X৭ প্রবাহিত হচ্ছে। গ্রীষ্মের সময়ও যার মাত্র ১-৫ ভাগ পানি দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করা যাবে। সেই কারণে সবদিক বিবেচনায় রূপপুরই একটি আদর্শ স্থান বলে বিবেচিত হয়েছে।

৫. পাবনার রূপপুর নিন্ম ভূমিকম্পন প্রবণ এলাকায় অবস্থিত। কারণ এখানে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প হয় না। এখানে রয়েছে ১০০ বছরের বেশি পুরনো হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, আছে পাবনা জজ কোর্ট- যার বয়সও ১০০ বছরের মত হবে, আরো রয়েছে ৪৭০ বছরের পুরনো সমাজ শাহী মসজিদ। এসব পুরনো স্থাপনা বহাল তবিয়তে টিকে আছে এখনও। দেখলেই বোঝা যায়, পাবনায় তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প হয় না। তাই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রূপপুর নির্বাচন করা হয়েছে।

ছবিঃ পেরি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, যুক্তরাষ্ট্র

© ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!