শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাইলেন মোস্তফা মহসিন মন্টু

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গণফোরাম থেকে ইতিমধ্যে বহি’ষ্কৃত হয়েছেন মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ গণফোরামের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। এরমধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। এরা সবাই একসময় আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।

১৯৯১ সালে মোস্তফা মহসিন মন্টু ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গণফোরামে যোগ দেন। এরপর তিনি গণফোরামেই ছিলেন। তার আগে থেকেই মোস্তফা মহসিন মন্টু দ্ব’ন্দ্বে জড়িয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে। যুবলীগের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তিনি শেখ হাসিনার বিরু’দ্ধে একরকম বিরু’দ্ধাচারণই করেছিলেন। এখন মন্টু অনুতপ্ত। জীবন সায়াহ্নে এসে তিনি ঘরে ফিরতে চাইছেন। ঘর বলতে তিনি আওয়ামী লীগকে বুঝিয়েছেন।

মোস্তফা মহসিন মন্টু গতকাল দেখা করেন আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে। সেই প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে তিনি নিজের দুঃখের কথা বলেন। রাজনীতিতে তার ভুলত্রু’টি নিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। শেষ বেলায় এসে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদানের জন্য অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য তাকে জানান, শেখ হাসিনার মন্টুর ব্যপারে রিজার্ভেশন রয়েছে।

মন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তার ব্যাপারে রিজার্ভেশন থাকতেই পারে কারণ তিনি শেখ হাসিনাকে ক’ষ্ট দিয়েছেন। রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে তিনি অনেক সমস্যায় ফেলেছেন এখন সেসব কাজের জন্য তিনি শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমাও চান। তিনি শেখ হাসিনার সাথে একবার দেখা করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগের ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করাটা কঠিন। তবে মোস্তফা মহসিন মন্টুর বার্তাটা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌছে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ মোস্তফা মহসিন মন্টুকে নেবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

যে কারণে যুবলীগ থেকে মন্টুকে বহি’ষ্কার করেছিলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাগেরহাটের সন্তান শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল। তিনি ছিলেন সৎ, ত্যাগী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা। এই বাদলকে ১৯৯১ সালে টিএসসিতে শেখ হাসিনার মিটিং চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গু’লি করে হ’ত্যা করা হয়। এই ঘটনার পেছনে তৎকালীন সরকারি মদদ ছিল।

আওয়ামী লীগের দলীয় তদন্তে তৎকালীন যুবলীগ নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু চিহ্নিত হন বাদল হ’ত্যার মূল হোতা হিসেবে। শেখ হাসিনা সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন মন্টুকে দলে রাখবেন না। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র এতটাই গণতান্ত্রিক যে, এখানে এককভাবে কেউ কাউকে দল থেকে বহি’ষ্কার করতে পারেন না। দলের সর্বোচ্চ বডি অর্থাৎ ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডাকতে হয়। সেদিন শেখ হাসিনার বিরো’ধীদলীয় নেতার বাসভবনে অর্থাৎ ২৯ মিন্টো রোডে এই ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডাকা হয়।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য একমাত্র ড. কামাল হোসেন তখন মন্টুর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি মিটিংয়ে অ’শালীন ভাষা প্রয়োগ শুরু করেন। ড. কামালের সেই বক্তব্যের কাউন্টার দিয়ে মতিয়া চৌধুরী সন্ত্রা’সের বিপক্ষে এবং শেখ হাসিনার অবস্থানের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন।

মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে ব্যর্থ হয়ে- ড. কামাল শুধু উত্তে’জিতই হননি, ইংরেজিতে অ’শ্রাব্য শব্দের প্রয়োগ করেন (ড. কামালের এ বিষয়ে পারদর্শিতা রয়েছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘বাস্টার্ড’ বলেন)। সেদিন মিটিংয়ে সেসব শব্দ চয়ন শুনে অতি ভদ্রলোক হিসেবে সুপরিচিত প্রয়াত আব্দুল জলিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক (পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক) যে বক্তব্য রাখেন তা ভদ্রতার একটি ইতিহাস।

তিনি ড. কামালকে এসব শব্দ প্রয়োগ করতে মানা করেন। তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি আওয়ামী লীগের মতো দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে বক্তব্য রাখছেন। সেদিন ড. কামাল ছাড়া বাদবাকি সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আওয়ামী লীগে থেকে বহি’ষ্কার করা হয়। সেখানে মন্টুর পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন এবং তোফায়েল আহমেদসহ ৪ জন। মন্টুকে বহি’ষ্কারাদেশের বিপক্ষে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন তারা।

মন্টুকে যখন প্রথম সাসপেন্ড করা হয়, তখন তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডেয়াম সদস্য জোহরা তাজউদ্দীন। সেখানে তিনি বলেন, মন্টুকে অ’রাজনৈতিকভাবে বহি’ষ্কার করা হয়েছে।

মন্টুকে স্থায়ীভাবে বহি’ষ্কারের কিছুদিন পরেই ড. কামালও আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যান। তারপর তিনি গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে মন্টুও যোগ দেন।

শেয়ার করুন !
  • 503
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!