প্লাস্টিক জারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে সরকারের ব্যর্থতা কেন বেআইনি নয়- হাইকোর্টের রুল

0

আইন আদালত ডেস্ক:

বাজারে বেআইনিভাবে বোতলজাত মিনারেল ওয়াটার বলে বিক্রি হওয়া খাবার পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের আদেশের পর বিএসটিআই কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া, প্লাস্টিক বোতল ও জারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে সরকারের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি প্লাস্টিক বোতল ও জারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

৪ সপ্তাহের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সাতজনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (৩ ডিসেম্বর) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল সহ আদেশ দেন। এছাড়া, ৭ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারন রেখেছেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

এর আগে গত ২২ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রতারণার নাম বোতলজাত পানি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ওই সংবাদ যুক্ত করে গত ২৭ মে আইনজীবী শাম্মী আক্তার জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল সহ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)-র মতে, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার জার পানির চাহিদা রয়েছে রাজধানীতে। এমন চাহিদাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ কারখানা। কারখানাগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা পানি শোধনের ব্যবস্থা। ফলে সরাসরি নোংরা দূষিত পানি জারে ভরেই ভোক্তার কাছ বরাবর পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এসব জারভর্তি পানি যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, অফিস-আদালত এমনকি বাসাবাড়িতেও।

বিএসটিআই ও মহানগর পুলিশের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন সময়ে অবৈধ পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বাজারে অভিযান চালায়। এসময় মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছাড়াই পানি বিক্রি করার দায়ে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানাও করা হয়। তবু এ‌তে অসাধু ব্যবসায়ীদের পানি ব্যবসায় কোনো ধরনের প্রভাবই পড়ে না।

শেয়ার করুন !
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply