‘বঙ্গবন্ধু কন্যা চাঁদাবাজি করবেন, এটা অসম্ভব’

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

২০০৮ সাল। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ। আজম জে চৌধুরী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরু’দ্ধে চাঁদা’বাজির মামলা করলেন। এই সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে। শেখ হাসিনার বিরু’দ্ধে এক অ’বাস্তব এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ বানোয়াট মামলা নিয়ে শুরু হয়েছিল আইনী ল’ড়াই। অসুস্থ শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার জন্য তার জামিনের আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন। তৎকালীন সরকার জামিনের বিরু’দ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে। আপিলের আবেদনের শুনানীতে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনী ল’ড়াইয়ে যোগ দিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সাধারণতঃ ল পয়েন্টের বাইরে কথা বলেন না। আইন পেশায় আবেগ, উত্তে’জনা তিনি দেখান খুবই কম। কিন্তু এদিন সম্পূর্ণ অন্যরকম এক রূপে আর্বিভূত হলেন তিনি। আপিল বিভাগের কাছে প্রথমেই বললেন, ‘মাই লড, আমি আজ আইনের বাইরে কিছু কথা বলবো।’ এরপর ব্যারিস্টার রফিক বলেন, ‘আজ আমরা যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি, আপনারা যে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এটা সম্ভব হয়েছে এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে বলেই। স্বাধীন এই দেশটি প্রতিষ্ঠায় যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি না থাকলে আমরা আজ এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না।

বঙ্গবন্ধু কন্যা এই মামলার আসামী। বঙ্গবন্ধুর জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিতে পারতো। তাঁর মেয়ের জন্যও অনেক মানুষ সর্বস্ব উজাড় করে দিতে পারে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরো’ধী দলের নেতা। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা তিনি জাতির পিতার কন্যা।’

ব্যারিস্টার রফিক বলেন, ‘মাই লর্ড, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য তিনি চাঁদা’বাজি করবেন। শেখ হাসিনার এদেশে চাঁদা’বাজি করতে হয় না। তাঁর ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষী অগণিত। না চাইলেই সব কিছু দিতে তারা প্রস্তুত। শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শুধু মানুষকে দিয়েছেন। কারো কাছ থেকে কিছু নেননি। তাই তার বিরু’দ্ধে এই চাঁদা’বাজির মামলা শুধু হাস্যকর নয়, এটা ধৃষ্টতাপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই মামলা করেছে তারাই আসলে অপরাধী। তারা কেবল মিথ্যা মামলা করেনি। রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এভাবে আইনকে ব্যবহার গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত।’ এরপর ব্যারিষ্টার রফিক কিছু ল পয়েন্ট বলেন। আদালত শেখ হাসিনার জামিন বহাল রাখেন।

শেয়ার করুন !
  • 1.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply