হঠাৎ সমাবেশে অসুস্থ হয়ে পড়লেন ডা. জাফরুল্লাহ

0

সময় এখন ডেস্ক:

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে জামায়াতপন্থী সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে সমাবেশ চলাকালে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এরপর অসুস্থতা নিয়েই চেয়ারে বসে তিনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বেশি অসুস্থবোধ করলে তার নিজস্ব গাড়িতে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত সবার কাছে শারীরিক অসুস্থতায় বসে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিকতা না করতে বলেছেন। সাংবাদিকরা হলেন সত্য অনুসন্ধানী, সব সময় সত্য প্রকাশ করেন। আপনার সরকারের সবচেয়ে বড় বন্ধু সাংবাদিকরা। তারা প্রকৃত তথ্য আপনার সামনে তুলে ধরেন। সরকার যখন কথা বলতে দেয় না, সরকার যখন আলোচনা করতে দেয় না, তখনই দেশে ইয়োলো জার্নালিজমের সৃষ্টি হয়। তখনই দেশে জ’ঙ্গিবাদের উত্থান হয়।

যু’দ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁ’সির সাজা হওয়া জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আদালত অব’মাননাকারী সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, রুহুল আমিন গাজীকে কেন গ্রেপ্তার করেছেন? আপনি আপনার সহায়ককে জেলে পাঠিয়েছেন। অ’ন্যায় আচরণ করে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। আমরা চাই আপনি সুস্থ থাকুন।

১৪ নভেম্বর নয় আজই সব সাংবাদিকদের মুক্তি দিন। কথা বলো, প্রাণ খুলে কথা বলো, সত্যকে তুলে ধরো। তাহলে দে‌শের জন‌্য মঙ্গল হ‌বে। আর না হলে ক্রমেই দেশ জ’ঙ্গিবাদের দিকে যাবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতকাল এখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তৃতা করেছেন। তিনি রুহুল আমিন গাজীর মুক্তি চেয়েছেন। কিন্তু তিনি একবারও বলেননি, ওনারা ক্ষমতায় এলে এই কালো আইন বাতিল করবেন। কবরে পাঠিয়ে দেবেন।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে। সাংবাদিকদের সত্য অনুসন্ধান করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের নামে যত মামলা আছে তুলে নিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে। তাহলে আপনার ও দেশের লাভ হবে। দেশ-গণতন্ত্রের দিকে প্রসারিত হবে। আমি আবারও বলছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আজই কবরে পাঠিয়ে দিন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ সাংবাদিক নেতারা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত ইবনে মইন চৌধুরী।

শেয়ার করুন !
  • 267
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply