হাজী সেলিম: আওয়ামী লীগের আপসের রাজনীতির শেষ দৃষ্টান্ত

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

আওয়ামী লীগের রাজনীতি তিনি কখনই করেননি। আওয়ামী লীগের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনার ধারে কাছেও নেই তিনি। তারপরেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় আসার জন্য আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন সময় আপস করতে হয়েছে, সমঝোতা করতে হয়েছে। অনেক সময় দু’র্বৃত্তদের লালন-পালন ও পৃষ্ঠপোষকতা করতে হয়েছে। অনেক সময় অপ’রাজনীতিকে হজম করতে হয়েছে। সেই অপ’রাজনীতি এবং আপসের রাজনীতির শেষ চিহ্ন সম্ভবত হাজী সেলিম।

১৯৭১ সালের ১৫ আগষ্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যা করে স্বাধীনতা বিরো’ধীরা। এরপর আওয়ামী লীগের ওপরে চলে স্টিমরোলার। আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করে দেয়ার জন্য জাতীয় চার নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সে সময় গ্রেপ্তার ও হ’ত্যা করা হয়। এ সময় সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমান কেবল রাজনীতিকে নিঃশেষ করার চেষ্টা করেননি, রাজনীতির মধ্যে অনু-প্রবেশ করিয়েছেন যু’দ্ধাপরাধী গোষ্ঠী, পেশি শক্তি, কালো টাকা এবং অপ’রাজনীতি। এই পেশি শক্তি ও কালো টাকার ফলে রাজনীতি সত্যিকারের রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের টিকে থাকা নেতাকর্মী এমন কঠিন পরিস্থিতিতে হয়ে পড়েন দিশেহারা। শেখ হাসিনার অবর্তমানেই তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। তিনি গণতন্ত্রের আন্দোলনের সূচনা করেন এবং রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার এক অসম্ভব সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। দলকে সংগঠিত করতে থাকেন। কিন্তু গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া। জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ রাজনীতিকে এমন এক আবর্তে নিয়ে যান, যেখানে একজনকে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য প্রচুর বিত্তশালী হওয়া দরকার, পেশি শক্তির দরকার এবং দরকার রাজনীতি বহির্ভূত আরও অনেক কিছু।

নির্বাচনে জয়ী হতে সে সময় আওয়ামী লীগের অনেক আপস করতে হয়; অনেক আমলাকে যেমন মনোনয়ন দিতে হয়, তেমনি রাজনীতিবিদের বাইরেও পরিচিত, বিত’র্কিত; কিন্তু নির্বাচনের বৈতরণী পার করবে এ রকম অনেক ব্যক্তির হাতেও নৌকা প্রতীক তুলে দিতে হয়। হাজী সেলিম সে রকমই একজন রাজনীতিবিদ। লালবাগ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন হাজী সেলিমকে কোনো আদর্শিক করাণে দেয়া হয়নি। তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল শুধুমাত্র নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য। ওই আসনে হাজী সেলিম ছাড়া অন্য কেই জিততেও পারত না। সেই বাস্তবতা থেকে আওয়ামী লীগ এখন সরে আসছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কারণে দলটি এখন আস্তে আস্তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য দ্বিতীয় সংগ্রামের কাজ করছে। এই সংগ্রামের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সভাপতি যে কোনো অপ’কর্ম ও স্বে’চ্ছাচারিতার বিরু’দ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতা গ্রহণ করেছে।

তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের আগে সংসদ সদস্যদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, অ’নিয়ম-দুর্নীতি করলে ছাড় পাওয়া যাবে না। তিনি আওয়ামী লীগের ভেতরেই শুদ্ধি অভিযান করেছেন, দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দল থেকে বের করে দিয়েছেন। যেখানেই দলের নেতাকর্মীদের বিরু’দ্ধে কোনো অপ’কর্মের অভিযোগ উঠছে সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারায় ফিরে আসছে। দলে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদেরকে মূল্যায়নের দিকে জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে দলের বাইরেও যারা দলের নেতা হয়েও বিভিন্ন অ’নিয়ম করছেন তাদের ব্যপারেও ছাড় দিচ্ছেন না।

এরই ধরাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ ‘৭৫ পরবর্তিতে যে পোস করেছিলো সেই আপসের ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে। যার আরেকটি বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা। হাজী সেলিমের পুত্রের গতকালের ঘটনার প্রেক্ষিত্রে আওয়ামী লীগ সরকার যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলো, তা থেকেই বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ আপসের রাজনীতি থেকে জনগণের রাজনীতির পথে যাওয়ার অপেক্ষায় মাত্র। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 424
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply