হৃদয়কে আর্থিক সহায়তা পেলেন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে

0

নেত্রকোনা সংবাদদাতা:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা নেত্রকোনার হৃদয়কে অত্যাধুনিক হুইলচেয়ার ও শিক্ষাবৃত্তির আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হৃদয়ের হাতে ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার ও সমাজসেবা অধিদফতরের ১৪ হাজার ৭০০ টাকার চেকের এ উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মঈন উল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উদ্যোগে নেত্রকোনায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় মোক্তারপাড়া মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মঈন উল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাবিবুর রহমান। হৃদয় তার মা সীমা সরকারকে নিয়ে দিবসটির কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সম্প্রতি সীমা সরকার বিবিসি বাংলার বিশ্বের ১০০ সেরা মায়ের মধ্যে স্থান করে নেন। হৃদয় এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন।

অনুষ্ঠানে হৃদয়ের পাশাপাশি আরও ৯ জন প্রতিবন্ধীর মধ্যে হুইলচেয়ার ও ৩৪ জনকে শিক্ষাবৃত্তির চেক দেয়া হয়।

কোটা বাতিল তো কী হয়েছে, প্রতিবন্ধীদের চাকরির জন্য আমি আছি: শেখ হাসিনা

প্রজ্ঞাপণ জারির মাধ্যমে কোটা বাতিল করে দিলেও সরকার প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধার সুরক্ষার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোটা বাতিল হয়েছে তো কী হয়েছে? প্রতিবন্ধীদের চাকরির জন্য আমি আছি। তাদের শক্তি ও মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। অবহেলা না করে তাদেরকে এই সমাজের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

আজ সোমবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২৭তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২০তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর মানুষের সুযোগের কথা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তারই আলোকে আজ আমরা প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করছি। যাদেরকে এক সময় অবহেলা করা হতো, একজন মানুষ হিসেবে যার কোনো অধিকার ছিল না আমরা ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবন্ধী সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। প্রতিবন্ধীরা এখন লেখাপড়া করছে, খেলাধুলার মাধ্যমে স্বর্ণ জয় করে তারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে নিয়ে আসছে। সুতরাং এখন আর প্রতিবন্ধীরা অবহেলার পাত্র নয়।

শেয়ার করুন !
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply