শেখ হাসিনার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আরেকটি বাধা পেরোলো সরকার

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠিন সময়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। কঠিন সময়ে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদশির্তার কারণে সরকার অনেক বিপ’র্যয় এবং সং’কট থেকে সহজেই উতরে যায় দেশ। তার সর্বশেষ প্রমাণ হলো হাজী সেলিমের পুত্রের ঘটনা। এই ঘটনাটি গুরুতর রূপ নিতে পারতো। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশ’স্ত্র বাহিনী এ ঘটনায় বি’রূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতো। কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ও ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিচক্ষণতা সং’কট থেকে সরকারকে রক্ষা করেছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরু’দ্ধে ধানমন্ডি থানায় হ’ত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে সোমবার ভোরে মামলাটি করেছেন। মামলায় ৩ জন নামীয় এবং অ’জ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলো, ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অ’জ্ঞাত আরও ২-৩ জন। গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজি সেলিমের একটি গাড়ি থেকে ২-৩ জন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে ব্যাপক মা’রধর করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেন। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

ওয়াসিফ আহমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, রবিবার (২৫ অক্টোবর) নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে তিনি মোহাম্মদপুরে তার বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ওয়াসিফ আহমদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গা’লিগালাজ করে। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমদও তাদের পেছনে পেছনে যান। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান।

তখন ৩-৪ জন গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মে’রেই ফেলবো− এই কথা বলে তাকে মা’রধর থাকে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং হাম’লাকারীরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের হস্তক্ষেপে মোটরসাইকেল চালক এবং গাড়িসহ হাজী সেলিমের পুত্রকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি নির্দেশনা দেন, যা ঘটেছে অপরাধীদের সাজা পেতে হবে। একজন ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। সড়ক দুর্ঘটনা দেখার জন্য পুলিশ আছে, ট্রাফিক আছে। একজন ব্যক্তি কেন মোটরসাইকেল আরোহীকে মা’রধর করবে। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে ঘটনার ওপর নজর রাখেন।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরই ধানমণ্ডি থানা হ’ত্যাচেষ্টা এবং মা’রধরের মামলা নেয়। সেখানে হাজী সেলিমের পুত্র, বডিগার্ড, ড্রাইভারসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নিতে পারতো। কারণ নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তার সাথে এমন ঘটনা দেশের সশ’স্ত্র বাহিনীর ওপর বিরূ’প প্রভাব ফেলার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিলো।

সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহাকে হ’ত্যার পর সেনাবাহিনীর মধ্যে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনাও প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতায় সামাল দেওয়া হয়। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধান ও পুলিশ প্রধানকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দুই বাহিনীর মধ্যে যে অ’স্বস্তি তৈরি হয়েছিল তা নিরসন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার কাজ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার পরিবারকে টেলিফোন করেন এবং সমবেদনা জানান। এ সকল ঘটনার মাধ্যমে একটি কঠিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

মেজর সিনহা ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। অন্যদিকে গত কালকের ঘটনায় নৌবাহিনীর যে কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, তিনি এখনো কর্মরত। কাজেই এটি সশ’স্ত্র বাহিনীর মধ্যে আরও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারত। বিশেষ করে এমন একজন ব্যক্তির পুত্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে, যার সম্পর্কের সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের নে’তিবাচক মনোভাব রয়েছে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন।

একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, টানা ৩য় মেয়াদ এবং চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে শেখ হাসিনা আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি কোন অপরাধ হলে, অ’নিয়ম হলে কে অপরাধ করেছে, কারা করেছে, দেখছেন না। বরং অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করার জন্য তৎপর হচ্ছেন। নিজেই পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। তাঁর হস্তক্ষেপের কারণেই একটি গভীর সং’কট নিরসন হলো বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 275
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply