সন্তানদের কারণেই রাজনীতিবিদদের বেহাল দশা!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

রাজনীতিবিদরা সবসময় প্রত্যাশা করেন তাদের সন্তানরা তাদের উত্তরাধিকার হবেন। তাদের মতো রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবেন। শুধু রাজনীতিবিদরাই নয়, সব পিতা-মাতাই প্রত্যাশা করেন তাদের সন্তান সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবেন; নিজেদের অ’পূর্ণতাগুলো সন্তানরা পূর্ণ করবেন।

কিন্তু দেখা গেছে, সন্তানদের কারণে বিপ’র্যয়ের মধ্যে পড়েছেন অনেক রাজনীতিবিদ। যার কারণে চরম মূল্যও দিতে হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুত্রের কারণে বিপ’র্যস্ত রাজনীতিবিদের নামের তালিকা করলে হয়ত সবার ওপরে থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার আজকের এই পরিণতির পেছনে দলের নেতাকর্মীরাও দায়ী করেন ছেলে তারেক রহমানকে। তারেকের দুর্নীতি, দু’র্বৃত্তায়ন এবং অপ’কর্মের কারণে আজ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটির এই পরিণতি।

শুধু তারেক রহমানই নয়, বিএনপির আরও অনেক নেতাই তাদের পুত্রের দায়ভার বহন করছেন; পুত্রদের অপ’কর্ম, দুর্নীতি ও দু’র্বৃত্তায়নের কারণে রাজনীতিতে চরম নি’ন্দিত হতে হয়েছে তাদেরকে। পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০০১-০৬ সালে পুত্রের দুর্নীতি এবং স্বে’চ্ছাচারিতার কারণে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মোরশেদ খানের রাজনৈতিক জীবন সং’কটে পড়েছে। একইভাবে পুত্রের অপ’কর্মের কারণে সাইফুর রহমানকেও বিত’র্কিত হতে হয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুত্রের কারণে বিপাকে পড়া রাজনীতিবিদের সংখ্যাও কম নয়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার পুত্রের দায় শুধু তাকেই বহন করতে হয়নি, পুরো আওয়ামী লীগের ওপরেও বর্তেছিল। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ তার মন্ত্রীসভায় চমক আনে। আনকোরা নতুনদের দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় তৃণমূলের এক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই মন্ত্রীর পুত্র কিছুদিন এপিএস এর দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি একটি হোটেল দখ’ল করতে গিয়ে বিত’র্কিত হন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে সেই মন্ত্রী নির্বাচনে মনোনয়নই পাননি। শুধুমাত্র পুত্রের কারণেই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পুত্রের বিরু’দ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ আলোচিত হয়। দুদক ওই মন্ত্রীর সাবেক সহকারি একান্ত সচিব ও সাবেক একান্ত সচিবকে জেরা করছে। এর প্রধান কারণ হলো পুত্রের অপ’কর্ম।

আর এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিম। গত রবিবার রাতের ঘটনাটি রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার দাপটের একটি নজির মাত্র। এমপির সন্তান, নিজে কাউন্সিলর আবার শ্বশুরও একই দলের এমপি; ফলাফল- ধরাকে সরা জ্ঞান করতে গিয়ে হয়েছে পত’ন। আর কে বলতে পারে, এই ঘটনার কারণে তার পিতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও যে সমাপ্তির দিকে যাবে না?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সন্তানদের কারণে রাজনীতিবিদদের যে বিপ’র্যয়, তার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে যুক্ত হবে এই ঘটনাটি। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 343
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply