‘আজাইরা’ ইস্যুতে বিব্রত সরকার

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

একটি সরকার নির্বাচিত হয় জনগণের কল্যাণের জন্য। তার নির্বাচনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে জনকল্যাণ করতে চায় একটি সরকার। আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায়। একে একে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সময় সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়। ভুল সিদ্ধান্ত বা পরিস্থিতির কারণে সরকার অনেক সময় বিব্র’তকর পরিস্থিতিতে পড়ে।

কিন্তু টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন সরকার এখনও জন আস্থার সং’কটে না পড়লেও কিছু অ’যাচিত বা ‘আজাইরা’ ইস্যুতে সরকারকে বিব্র’তকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। যে ইস্যুগুলো না সরকারের সৃষ্টি, না সরকার এর জন্য দায়ী। এমনভাবে ইস্যুগুলো তৈরী হচ্ছে, যা মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।

সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা একের পর এক বাড়ছে। অবশ্য ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি একের পর এক মোকাবেলা করতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। সেগুলো মোকাবেলা করেই সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের একটি রোল মডেল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হয়েছে বহির্বিশ্বে প্রশংসিত।

আমরা যদি দেখি ২০০৮ এর নির্বাচনের পর ২০০৯ এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই ফ্রেরুয়ারিতে পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেছে। যার সঙ্গে সরকারের কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। কিন্তু অ’যাচিত এই ইস্যুটি সরকারকে একটি কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছিলো।

আবার সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি, এ রকম অ’যাচিত ইস্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। একটি ইস্যু শেষ হতে না হতেই নতুন ইস্যু তৈরি হচ্ছে। গত ৩১ জুলাই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে নিহ’ত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা। এই ঘটনাটির সঙ্গে কোনভাবেই সরকারের কোন সম্পৃক্তা নেই। অথচ একজন দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার ব্যাক্তিগত অপ’কর্মের দায় এসে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হয়। অপরাধীরাও দ্রুত গ্রেপ্তার হয়। বর্তমানের তাদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে।

সিনহার ঘটনাটির রেশ কাটতে না কাটতে আমরা দেখি, ঘোড়াঘাটে ইউএনও ওয়াহিদা আক্রা’ন্ত হন। যে ঘটনাটিও সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের কোন বিষয় নয়। সরকার এই কার্যক্রমের সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যাক্ষভাবে জড়িত নয়। অথচ এই ঘটনা পুরো প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় তৈরি করেছিলো।

এর পরবর্তীতে আমরা দেখি, সারাদেশে একের পর এক ধ- এর ঘটনা। এ ঘটনাগুলো সরকারকে এক ধরনের অ’স্বস্তির মধ্যে ফেলেছিলো। বিশেষ করে সিলেটের এমসি কলেজ এবং নোয়াখালীর ঘটনাটি সরকারেরে ওপর এক ধরনের চাপ হয়ে এসেছিলো। যদিও এই ঘটনা সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের সঙ্গে কোনভাবে সংশ্লিষ্ট নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যে ধ- এর যে ঘটনাগুলো ঘটছে, এর প্রেক্ষিতে বরং সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন সংশোধন করেছে এবং ধ- এর সর্ব্বোচ সাজা মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দেয়ার বিধান করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে সেখানেই আইনের যথাযথ এবং কার্যকর প্রয়োগ করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় না দেয়ার যে নীতি সে নীতিতে সরকার অটল রয়েছে।

এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল একজন সংসদ সদস্যের পুত্রের বাড়াবাড়ি এবং স্বে’চ্ছাচারিতা সরকারকে আরেকটি পরিস্থিতির মুখে ফেলেছিলো। একজন এমপির পুত্র একজন নৌবাহিনী কর্মকর্তার ওপর হাত কীভাবে তোলেন সে নিয়ে জনমনে অ’স্বস্তি এবং এক ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় সরকারের কোন দায় নেই। কিন্তু পুরো ব্যাপারটি যেন সরকারকে অ’স্বস্তিতে ফেলেছিলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত এবং ত্বরিৎ ব্যবস্থার কারণে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। একটি সরকারকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং সেই দায়িত্ব পালনের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সেবা করা। কিন্তু এ ধরনের ‘আজাইরা’ ইস্যুগুলো সামনে চলে এলে সামগ্রিক কর্মকান্ডের ওপর তা কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে। বাংলাইনসাইডার।

শেয়ার করুন !
  • 40
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply