রাক্ষসের মত টপাটপ মানুষ খেয়ে ফেলছে এই সরকার: মান্না

0

সময় এখন ডেস্ক:

এই সরকার, সরকারের লোকজন রাক্ষসের ভূমিকায়; রাক্ষস যেমন মানুষ খায়, তেমনি সরকার টপাটপ মানুষ খেয়ে ফেলছে, কোনওরকম বিচার হচ্ছে না।

আজ মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত গুম হওয়া পরিবারদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’- এর আলোচনা সভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কেঁদে কী হবে, এই কান্নায় কারও কোল ভিজবে না। যারা ক্ষমতায় আছেন, যারা কিছু করতে পারেন আপনাদের জন্য, যারা দায়িত্বে আছেন, তারা সবাই দায়িত্বজ্ঞানহীন। কোনও মানুষের জন্য তাদের কোনও দয়া নেই, দরদ নেই। যতদিন পর্যন্ত এরা ক্ষমতায় আছে, ততদিন পর্যন্ত আপনারা কোনও বিচার পাবেন না। অতএব লড়াই একটাই, এদের কবল থেকে মুক্তি চাই। তাহলে পরে আমরা স্বজনদের ফিরে পাব, এদের কাছ থেকে পাবেন না।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, আপনারা দেখছেন নির্বাচনের নামে সরকার কী কী করছে। যারা এই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে তাদের গ্রেফতার করছে, তারা গুম হয়ে যাচ্ছে, মামলা দেওয়া হচ্ছে একটার পর একটা। এমনকি এরকম পর্যন্ত হয়েছে, যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে তার কোনও অস্তিত্ব নেই, তবুও মামলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সুমন ও হোম মিনিস্টার একই এলাকার মানুষ। ৫ বছর আগে সুমনের মা-বোনরা যখন তার কাছে গিয়েছিল, তিনি বলেছিলেন তিনি এ বিষয়ে জবাব দিবেন। ৫ বছর পর্যন্ত কোনও জবাব তিনি দেননি। মনে করেছেন নির্বাচনের মধ্যে তিনি জবাব দিবেন, দেবেন না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, কাজ একটাই, এদের (সরকার) ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে হবে, ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করতে হবে। আর সেটার জন্য আপনারা নিজ-নিজ এলাকায় যান, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন যাকে পান, তাকেই বলেন সামনের নির্বাচনে এদেরকে জবাব দিতে চাই। যদি গুমের বিচার চান, তাহলে ভোটের লড়াই করতে হবে। আপনাদের চোখের পানিকে বারুদে পরিণত করেন। সামনে ভোটের মাধ্যমে লড়াই করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদের নেতা খালেকুজ্জামান, বিএনপির নির্বাহী কমিটর সদস্য তাবিথ আওয়ালসহ গুম হওয়াদের পরিবারের সদস্যরা।

শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো:

সরকার ভাবছে আমরা নির্বাচনে যাব না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো। সরকার এক রাস্তা দিয়ে না যেতে দিলে অন্য রাস্তা দিয়ে যাব। দিনে যেতে না দিলে রাতে যাবো। তবু নির্বাচনের মাঠে থাকবো। জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী এলাকা’ শীর্ষক অপর এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেটা নিয়ে জনমনে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। বর্তমান সরকার ও কমিশনের আচরণে আমাদের সন্দেহ আরও শক্তিশালী করছে। বিরোধী দলকে চাপে রেখে একতরফা নির্বাচন করার যে নীলনকশা ধরে সরকার এগিয়ে চলছে, অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে কমিশন সেই নীলনকশা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

এই সরকারই শেষ সরকার নয় বলে হুশিয়ারী দিয়ে তিনি বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব এবং জিতবো। বর্তমান কমিশন বিরোধী দলের উপর একরোখা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারাও এদেশের সন্তান এবং জনগণের করের টাকায় বেতন পান। আমরা এমন একটা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি যেখানে দেশের মানুষ রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তার সেবক হিসেবে পাবে, সবাই শান্তিতে সহাবস্থানে বসবাস করবে। পুলিশ বর্তমানে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে যে হয়রানিমূলক আচরণ করছে তা বন্ধ না হলে, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হলে যে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে তার দায়-দায়িত্ব প্রশাসন ও পুলিশকে নিতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply